কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ হাজতবাসের পর মিললেও স্বস্তি যেন অধরাই থেকে গেল রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। জামিনের কড়া শর্ত লাগাতার লঙ্ঘন করার অভিযোগে তাঁর জেলমুক্তির আনন্দ এখন তীব্র আশঙ্কায় রূপ নিয়েছে। সুনির্দিষ্ট শর্ত মেনে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে নিয়মিত হাজিরা না দেওয়ার কারণে পার্থবাবুর জামিন বাতিল করে তাঁকে পুনরায় জেলবন্দি করার আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আজ, বৃহস্পতিবারও তিনি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আইনি জটিলতা চরম আকার ধারণ করেছে। এখন রাজ্যবাসীর নজর আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের দিকে, কারণ ওই দিনই নির্ধারিত হবে পার্থর ভাগ্য।
শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও পরবর্তীতে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন তৎকালীন হেভিওয়েট মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের অন্যতম শীর্ষ এই ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির শিকড় যে কতটা গভীরে ছড়িয়েছিল, তা পরবর্তীতে ইডি-সিবিআইয়ের তদন্তে স্পষ্ট হয়। দীর্ঘ তিন বছর কঠিন জেলযন্ত্রণা ভোগ করার পর গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কিছু বিশেষ শর্তাধীনে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, মামলার প্রতিটি শুনানিতে তাঁকে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।
তবে সিবিআইয়ের অভিযোগ, মুক্ত হওয়ার পর থেকেই আদালতের বেঁধে দেওয়া অন্যতম প্রধান এই শর্তকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি কোনোভাবেই নিয়মিত শুনানিতে হাজিরা দিচ্ছেন না। ফলে তদন্তের গতি শ্লথ হচ্ছে এবং জামিনের আইনি সুবিধা অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে আদালতে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার। এই যুক্তিতেই সিবিআই সরাসরি পার্থর জামিন খারিজের পিটিশন দাখিল করেছে এবং তাঁকে ফের কাস্টডিতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
যদিও সিবিআইয়ের এই অভিযোগ ও জল্পনাকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী। তাঁর দাবি, পার্থবাবু এই মুহূর্তে অত্যন্ত অসুস্থ এবং তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি একেবারেই যাতায়াতের অনুকূলে নয়। সম্পূর্ণ শারীরিক কারণেই তিনি নিয়মিত আদালতে উপস্থিত হতে পারছেন না, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। তাঁর মক্কেল কোনোভাবেই জামিনের শর্ত মানতে অবহেলা করেননি বলেও জানান তিনি। তবে অসুস্থতার অজুহাত আদালত মেনে নেবে নাকি ফের একবার প্রাক্তন মন্ত্রীর ঠাঁই হবে শ্রীঘরে, ২৯ সেপ্টেম্বর শুনানির দিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন