কলকাতা: উৎসবের আলো নিভতেই কলকাতার বুকে নেমে আসা এক গভীর ছায়া আজও মিলিয়ে যায়নি। চোরবাগান সর্বজনীনের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের প্রাণহানির নেপথ্য কারণ খুঁজতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। এদিকে, নদিয়া থেকে আটক করা হয়েছে সেন্টু নামের এক ব্যক্তিকে। অভিযোগ, দুর্ঘটনার দিন তিনিই ঘোষকের ভূমিকায় ছিলেন।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে মণ্ডপের নকশা, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথের প্রস্থ এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ দিক খতিয়ে দেখলেন সিট ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘক্ষণ ঘটনাস্থলে থেকে থ্রিডি স্ক্যানার ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে গোটা এলাকার ত্রিমাত্রিক ছবি তুলে রাখেন তাঁরা। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই জটিল মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া যে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিটের প্রধান।
বৃহস্পতিবার প্রথমে গোয়েন্দা বিভাগের এসি পদমর্যাদার আধিকারিকদের গঠিত কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তকারী দল এবং পরবর্তীতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা চোরবাগানে পৌঁছান। দীর্ঘদিন ঘটনাস্থলে মণ্ডপ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হওয়ায়, তা ভেঙে ফেলার আগেই নিখুঁত নমুনা সংগ্রহ করতে তৎপর হন তদন্তকারীরা।
সিটের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে সেই রাতের সেই দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্তটিকে। যখন মণ্ডপের প্রবেশপথে উপচে পড়া ভিড় এবং গ্রিলে ঘেরা উড়ালপথের ওপরে দর্শকদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়েছিল। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে শোনা সেই রহস্যজনক ঘোষণা, “মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে”! কেন ও কার নির্দেশে মাইকে প্রচার করা হয়েছিল, তা নিয়েও কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ওই ভুয়ো ঘোষণাই মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং হুড়োহুড়ির জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ইতিমধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুজো কমিটির দুই কর্তা-সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত এই ৬ সদস্যের বিশেষ দলে সিটের প্রধানের পাশাপাশি রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি, এনডিআরএফ প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিনিধি এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, “তিন মাসের মধ্যে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে এই তদন্ত শেষ করা এবং রিপোর্ট দেওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে তা করতেই হবে। মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
সব মিলিয়ে, সিটের এই তৎপরতার পর এখন গোটা রাজ্যবাসীর নজর ওই তিন মাসের অন্তিম রিপোর্টের দিকেই।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন