Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Chorbagan Tragedy: চোরবাগান ট্র্যাজেডির গভীর ক্ষত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে তৃণমূলের ট্র্যাডিশনাল সেলিব্রেশনে বড় কোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
 Chorbagan Tragedy: চোরবাগান ট্র্যাজেডির গভীর ক্ষত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে তৃণমূলের ট্র্যাডিশনাল সেলিব্রেশনে বড় কোপ
বিজয়া উদযাপন নয় মমতার। ছবি-হিডেন স্টোরিজ নিউজ

কলকাতা: বিগত বছরগুলিতেও বিজয়া দশমী মানেই ছিল কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে উপচে পড়া ভিড়, হাসিমুখের কোলাকুলি আর দেদার মিষ্টিমুখের গমগমে পরিবেশ। তবে এবছর যেন সম্পূর্ণ বিপরীত এক ছবি দেখে থমকে গেল রাজনৈতিক মহল। মমতার বাসভবনে এবার আর নেই সেই ভিড়ভাট্টা, নেই বিজয়ার কোনো মহাসমারোহ। দলের কর্মীদের সঙ্গে মিষ্টিমুখের বদলে শুধুই শুভেচ্ছা বিনিময়েই ইতি টানার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল দলনেত্রী। নেত্রীর এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপে রাতারাতি স্তব্ধ শাসকদলের বিজয়া উদযাপন।

এই চরম বদলের নেপথ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে চোরবাগানের সেই মর্মান্তিক ক্ষত। পুজো মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে এসে আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৯ জন নিরীহ দর্শনার্থী। পুজোর আনন্দের মাঝে ঘটে যাওয়া এই মারাত্মক ট্র্যাজেডি নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো রাজ্যকে। শহরের বুকে এমন নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মানসিক আঘাত আর শোক বুকে নিয়ে বিজয়ার মতো কোনো উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে গা ভাসাতে চাননি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে কালীঘাট থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় ঘাসফুল শিবিরের ঐতিহ্যবাহী মেগা সেলিব্রেশন ও দীর্ঘ জনসংযোগ কর্মসূচিতে একপ্রকার লাগাম টানা হয়েছে।


শুধু চোরবাগান ট্র্যাজেডির মনখারাপই নয়, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ অন্দরের রাজনৈতিক অস্থিরতাকেও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পর থেকে বহু কর্মী-সমর্থক নানা বিপদের মুখোমুখি, যা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি দলনেত্রীর। কোনো বড় ধরনের উল্লাস কিংবা শোভাযাত্রা না করে নিরিবিলিতেই শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন তিনি। দলীয় কার্যালয় বা পাড়ার মোড়ে যে জমজমাট ভোজ হতো, তার ওপরও পড়েছে নির্দেশের খাঁড়া।

তবে শাসকদলের এই নীরবতাকে তীব্র আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। তাদের দাবি, কোনো শোকের কারণে নয়, বরং ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু সাংগঠনিক শক্তির কারণেই পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মমতা। মাঠে কর্মী-সমর্থকদের অনুপস্থিতি ঢাকতেই নাকি এই ‘নমোনমো’ করে বিজয়া পালনের নাটক রচা হচ্ছে। শাসক বনাম বিরোধীদের এই বাকযুদ্ধের মাঝেও কিন্তু আড়ালে ঢেকে যাচ্ছে চোরবাগান বিপর্যয়ে স্বজনহারা পরিবারগুলোর অন্তহীন হাহাকার।

বিষয় : Mamata Banerjee TMC chorbagan tragedy Bijoa Dashami

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


Chorbagan Tragedy: চোরবাগান ট্র্যাজেডির গভীর ক্ষত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে তৃণমূলের ট্র্যাডিশনাল সেলিব্রেশনে বড় কোপ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বিগত বছরগুলিতেও বিজয়া দশমী মানেই ছিল কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে উপচে পড়া ভিড়, হাসিমুখের কোলাকুলি আর দেদার মিষ্টিমুখের গমগমে পরিবেশ। তবে এবছর যেন সম্পূর্ণ বিপরীত এক ছবি দেখে থমকে গেল রাজনৈতিক মহল। মমতার বাসভবনে এবার আর নেই সেই ভিড়ভাট্টা, নেই বিজয়ার কোনো মহাসমারোহ। দলের কর্মীদের সঙ্গে মিষ্টিমুখের বদলে শুধুই শুভেচ্ছা বিনিময়েই ইতি টানার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল দলনেত্রী। নেত্রীর এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপে রাতারাতি স্তব্ধ শাসকদলের বিজয়া উদযাপন।এই চরম বদলের নেপথ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে চোরবাগানের সেই মর্মান্তিক ক্ষত। পুজো মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে এসে আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৯ জন নিরীহ দর্শনার্থী। পুজোর আনন্দের মাঝে ঘটে যাওয়া এই মারাত্মক ট্র্যাজেডি নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো রাজ্যকে। শহরের বুকে এমন নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মানসিক আঘাত আর শোক বুকে নিয়ে বিজয়ার মতো কোনো উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে গা ভাসাতে চাননি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে কালীঘাট থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় ঘাসফুল শিবিরের ঐতিহ্যবাহী মেগা সেলিব্রেশন ও দীর্ঘ জনসংযোগ কর্মসূচিতে একপ্রকার লাগাম টানা হয়েছে।শুধু চোরবাগান ট্র্যাজেডির মনখারাপই নয়, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ অন্দরের রাজনৈতিক অস্থিরতাকেও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পর থেকে বহু কর্মী-সমর্থক নানা বিপদের মুখোমুখি, যা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি দলনেত্রীর। কোনো বড় ধরনের উল্লাস কিংবা শোভাযাত্রা না করে নিরিবিলিতেই শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন তিনি। দলীয় কার্যালয় বা পাড়ার মোড়ে যে জমজমাট ভোজ হতো, তার ওপরও পড়েছে নির্দেশের খাঁড়া।তবে শাসকদলের এই নীরবতাকে তীব্র আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। তাদের দাবি, কোনো শোকের কারণে নয়, বরং ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু সাংগঠনিক শক্তির কারণেই পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মমতা। মাঠে কর্মী-সমর্থকদের অনুপস্থিতি ঢাকতেই নাকি এই ‘নমোনমো’ করে বিজয়া পালনের নাটক রচা হচ্ছে। শাসক বনাম বিরোধীদের এই বাকযুদ্ধের মাঝেও কিন্তু আড়ালে ঢেকে যাচ্ছে চোরবাগান বিপর্যয়ে স্বজনহারা পরিবারগুলোর অন্তহীন হাহাকার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত