পুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং, আড্ডা আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। উৎসবের মরসুমে মিষ্টি ছাড়া চলে নাকি! কিন্তু এই খাবারই যদি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন শরীরে বাড়তে পারে অতিরিক্ত শর্করা ও ক্যালরির বোঝা। আর তার প্রভাব পড়তে পারে লিভারেও।
তবে একদিন বেশি মিষ্টি খাওয়ার কারণে হঠাৎ লিভারে চর্বি জমে যায় না। ফ্যাটি লিভারের পিছনে সাধারণত দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের মতো একাধিক কারণ কাজ করে। কিন্তু মিষ্টির সঙ্গে লিভারের সম্পর্কটা কোথায়? খাবারের কার্বোহাইড্রেট শরীরে ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি হিসেবে ব্যবহার হয়। অন্যদিকে ফ্রুক্টোজের বিপাকের বড় অংশই লিভারে ঘটে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে ফ্রুক্টোজ ও ক্যালরি খেলে লিভার তার কিছুটা চর্বিতে বদলে ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে।
উৎসবের সময়ে চিনি-মেশানো পানীয়ও বড় ভূমিকা নিতে পারে। এসব খেলে অজান্তে অনেকটা ফ্রি সুগার শরীরে ঢুকে যায়। তবে মিষ্টি খেলেই যে ফ্যাটি লিভার হবে, ব্যাপারটা এমন নয়। আসল বিষয় হল কতটা খাওয়া হচ্ছে, কতদিন ধরে খাওয়া হচ্ছে এবং তার সঙ্গে জীবনযাপনের অন্য ঝুঁকিগুলি রয়েছে কি না। লিভারে চর্বি জমা মানেই সঙ্গে সঙ্গে লিভার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমনটা নয়। অনেকের ক্ষেত্রে শুরুতে কোনও উপসর্গও দেখা যায় না। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে লিভারে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি শুরু হতে পারে। সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ফাইব্রোসিস বা লিভারে দাগ তৈরি হওয়া, সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের মতো রোগও দেখা দিতে পারে।
তাই পুজোয় মিষ্টি একেবারে ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমাণের দিকে নজর দিন। পাশাপাশি খাবারে শাকসবজি ও প্রোটিন রাখা, নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চার অভ্যাসও বজায় রাখা দরকার।
বিষয় : Health Tips Durga Puja 2026

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন