কলকাতা: তিলোত্তমার বুড়িছোঁয়া ব্যস্ততা আর তড়িঘড়ি জীবনের মাঝেও কিছু শব্দ আজও থমকে দেয় বাঙালিকে। ট্রামের সেই পরিচিত টং-টং ঘণ্টাধ্বনি, কাঠের কামরার নস্টালজিয়া আর ধীরগতির এক রোমান্টিক শহর।
২০২৬ সালের দুর্গোৎসবে স্মৃতির সেই পুরনো কলকাতাকেই ফের জীবন্ত করে তুলতে চলেছে খিদিরপুর পল্লী শারদীয়া। আবেগের ঝাঁপি খুলে তাদের এবারের পুজোর বিশেষ ভাবনা,‘চল যাবো তোকে নিয়ে’।
খিদিরপুরের মাটির সঙ্গে কলকাতার ট্রাম সংস্কৃতির যোগ বহু পুরনো। এই খিদিরপুর থেকেই একদা এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত গড়িয়েছিল শহরের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রামের চাকা। ফলে ট্রামের এই ঐতিহাসিক যাত্রাপথকে বাদ দিয়ে খিদিরপুরের অতীত কল্পনা করা অসম্ভব।
সেই সোনালী ইতিহাসকেই এবার মণ্ডপের ক্যানভাসে রূপ দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তবে শুধু নস্টালজিয়া নয়, উঠে আসছে আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসও। অতীতে ট্রাম ভাড়া মাত্র এক আনা বাড়ানোর প্রতিবাদে কী ভাবে তিলোত্তমার রাজপথে ট্রামে আগুন জ্বলে উঠেছিল, সেই উত্তাল গণআন্দোলনের ছবিও সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপসজ্জায়।
উদ্যোক্তাদের অভিনব পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার স্মৃতির সেই কাঠের ট্রামে চেপে মণ্ডপে দেবী দুর্গা। কাঠের কামরার সূক্ষ্ম কারুকাজ, পুরনো আমলের অলিগলি আর হারিয়ে যেতে বসা শহুরে স্পন্দন দর্শনার্থীদের মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে দেবে অন্য এক কলকাতায়। ব্যস্ত নাগরিক জীবনকে ক্ষণেকের জন্য থামিয়ে অতীতে ফিরে যাওয়ার এ এক অনন্য নিমন্ত্রণ।
কলকাতার ট্রাম আর বাঙালির দুর্গোৎসব, দুটোই কেবল ইতিহাস বা পার্বণ নয়, বরং তিলোত্তমার আত্মপরিচয় ও আবেগের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সেতু বাঁধার এই আন্তরিক প্রয়াস যে শারদোৎসবে অন্যতম দর্শনীয় আকর্ষণ হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন