মালদহ: একের পর এক শিশুর রহস্যময় ও মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে ফের প্রবল চাঞ্চল্য ছড়াল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনেই এই হাসপাতালে প্রাণ হারাল অন্তত ৫৫টি নবজাতক। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, শুধু একটি দিনেই মারা গিয়েছে পাঁচটি শিশু। উল্লেখ্য, এর আগে গত আগস্ট মাসের শেষ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৮৯ জন শিশুর মৃত্যু নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও স্বাস্থ্যমহলে ব্যাপক হট্টগোল বেঁধেছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতেই স্বাস্থ্যভবনের বিশেষ তদন্তকারী প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং শিশু বিভাগে একাধিক গাফিলতির প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই তৎকালীন মেডিকেল সুপার ও শিশু বিভাগের প্রধানকে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এমন বড় পরিবর্তনের পরও শিশুমৃত্যুর এই ভয়ঙ্কর ধারা কেন থামানো যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মালদহ মেডিক্যাল কলেজের নতুন ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ডাঃ গণেশচন্দ্র গায়েন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে শিশুমৃত্যুর আসল কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত ৫৫ জন সদ্যোজাতের মধ্যে ৩৫ জনই মারাত্মকভাবে কম ওজনের ও অপুষ্ট ছিল। বাকি ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রসবকালীন জটিলতা এবং জন্ম পরবর্তী তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে। তিনি আরও জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে প্রসবের পর শিশুদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। পাশাপাশি মায়েদের অপরিণত বয়স বা কম বয়সে মা হওয়াই এই জটিলতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অপক্ক বয়সে গর্ভধারণের ফলে জরায়ুর সংকোচন ঠিকমতো না হওয়া এবং সদ্যোজাতের শারীরিক বিকাশ অসম্পূর্ণ থাকার কারণে মৃত্যু ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে। মৃত শিশুদের অধিকাংশেরই বাড়ি কালিয়াচক, সুজাপুর, হবিবপুর ও গাজোলের মতো গ্রামীণ এলাকাগুলিতে। কম বয়সী প্রসূতিদের একটি তালিকা ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যভবনে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মালদহের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ী জানান, এই মৃত্যুর মূল কারণগুলির সঙ্গে বাল্যবিবাহ সরাসরি যুক্ত। তাই বাল্যবিবাহ রুখতে বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে এবং পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন