নয়াদিল্লি: ইতিহাস, বিশ্বরেকর্ড আর শেফালি বর্মার বিধ্বংসী সেঞ্চুরির মেলবন্ধন।
জাপানের নিশিনে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে গেল ভারতের পদক জয়। রবিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ১১৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছল হরমনপ্রীত কৌরের ব্রিগেড। শেফালির প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতরান এবং স্মৃতি মান্ধানার বিশ্বসেরা রানের রেকর্ডের উপর ভর করে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল ১৯৫ রান। জবাবে মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। সোনার পদকের শেষ লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
জাপানের মাঠে এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত। সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করতে বেশি সময় নেননি দুই ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মান্ধানাও ও শেফালি বর্মা। ম্যাচ শুরুর পর থেকেই টাইগার্স বোলারদের উপর তাণ্ডব শুরু করেন দু’জনে। প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে-তেই স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ঝড়ের গতিতে ৭২ রান। ১৯ বলে ৩৭ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলে আউট হন স্মৃতি। আর এই ৩৭ রানের ইনিংসের সৌজন্যেই মহিলা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য নজির গড়ে ফেললেন এই ভারতীয় ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক স্মৃতি মান্ধানাও। টপকে গেলেন নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ব্যাটার সুজি বেটসকে (৪৭৫৮ রান)। স্মৃতির ঝুলিতে এখন ৪৭৬৫ রান। এই তালিকার প্রথম পাঁচে রয়েছেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর (৪২৮৭), শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু (৪২৮২) এবং নিউজিল্যান্ডের সোফি ডিভাইন (৩৮১৭)। কয়েক দিন আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাট মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড গড়েছিলেন স্মৃতি, এবার টি-টোয়েন্টির মসনদও তিনি নিজের নামে করে নিলেন।
স্মৃতি সাজঘরে ফিরলেও অন্যদিকে শেফালি বর্মার ব্যাটের তাণ্ডব থামেনি। মাঝের ওভারে কমলিনী ও রিচা ঘোষরা ব্যর্থ হলেও অপর প্রান্ত থেকে রানের গতি ধরে রাখেন শেফালি। বাংলাদেশের বোলারদের কার্যত দিশাহারা করে মাত্র ৪৯ বলে ১০০ রান তুলে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর এই ইনিংস সাজানো ছিল ৩টি চার এবং ৯টি বিশাল ছক্কা দিয়ে।
ইনিংসের শেষ বলে বাউন্ডারি কিংবা রান তুলে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। সেই সঙ্গে এশিয়ান গেমসে প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে শতরান করার নজিরও গড়লেন শেফালি। তাঁকে সঙ্গ দিয়ে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ৩৩ বলে ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে ভারত। বাংলাদেশের সানজিদা আক্তার মেঘলা ১টি উইকেট পান।
১৯৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের সুনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই খসে পড়তে থাকে বাংলাদেশের একের পর এক উইকেট। ওপেনার দিলারা আক্তার (২৩ বলে ২৭) এবং সুলতানা খাতুন ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনও ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। প্রাক্তন অধিনায়ক নিগার সুলতানাও ভারতীয় বোলিং বিক্রমের সামনে ভেঙে পড়েন। ১৫.৪ ওভারেই মাত্র ৮১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের পুরো দল।
ভারতের হয়ে দারুণ বোলিং করেন স্পিনার দীপ্তি শর্মা ও নন্দনী শর্মা। দু’জনেই ৭ ও ২৫ রান দিয়ে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। শ্রী চারানি নেন ২টি উইকেট। ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে সোনা জয়ের লড়াইয়ে ফাইনালে উঠে গেল ভারত। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ফাইনাল ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা, যারা অন্য সেমিফাইনালে চামারি আতাপাত্তুর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। এখন পুরো দেশের চোখ ২২ তারিখের মেগা ফাইনালে।
বিষয় : HiddenStoriesNews

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন