Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

US Iran: উৎসব মিটলেই কপালে চিন্তার ভাঁজ! ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানে কি হবে নভেম্বরে ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
US Iran: উৎসব মিটলেই কপালে চিন্তার ভাঁজ! ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানে কি হবে নভেম্বরে ?
অন্তর্বর্তী নির্বাচনের প্রচারে ডোনাল্ডো ট্রাম্প। ছবি : ফেসবুক

ওয়াশিংটন: দুর্গাপূজা ও উৎসবের মরশুমের মুখেই চরম অশনি সংকেত বিশ্ব অর্থনীতিতে। 

উৎসব কেটে গেলেই রান্নাঘরের হেঁশেলে আগুন লাগার আশঙ্কায় ঘুম উড়ছে মধ্যবিত্তের। ইরান থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্ট্রেইট অব হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল ঠিকই, কিন্তু এক ফুঁয়ে সেই 'শান্তি প্রস্তাব' উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, নভেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিড-টার্ম নির্বাচন মিটলেই তেহরানের উপর আবার পুরোদমে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি শুরু করতে চলেছে ওয়াশিংটন। ফলে পারস্য উপসাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেল ও এলপিজি গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হানার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে দাবানল জ্বলছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি জোগানের প্রধান ধমনী 'স্ট্রেইট অব হরমুজ' কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এমনিতেই বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। 

এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকে কাতারকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের কাছে ৭ দিনের এক 'কম্প্যাক্ট' শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান। 

বার্তা স্পষ্ট ছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তোলে, বাজেয়াপ্ত হওয়া অর্থ ফেরত দেয়, জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এবং লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়, তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। স্বাভাবিক হবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও।

রাষ্ট্রসংঘে দাঁড়িয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঙ্কার ছেড়ে বলেছিলেন, “বল এখন আমেরিকার কোর্টে। ইরান চাপ, হুমকি বা ভয় প্রদর্শনের কাছে মাথা নত করবে না। যদি আমেরিকা সত্যি আন্তরিক হয়, তবে আমরা যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ খোলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।” 

এমনকি বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র পোস্ট করে সেটিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ বলেও চিহ্নিত করা হয়।

কিন্তু তেহরানের সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর বিস্ফোরক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সমস্ত প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের ওপর তাঁর বিন্দুমাত্র ভরসা নেই। 

ইরান কখনোই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না— এই অবস্থানে অনড় থেকে ট্রাম্প তাঁর সেনাকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, নভেম্বরের নির্বাচন পর্ব মিটলেই তেহরানের বুকে পুনারায় পুরোদমে এয়ারস্ট্রাইক চালাতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনড় মনোভাবের মাশুল গুণতে চলেছে পুরো বিশ্ব। আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি পর্যালোচকদের মতে, যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার অর্থ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যাদের রান্নার গ্যাস (LPG) এবং জ্বালানি তেলের সিংহভাগই এই পথ দিয়ে আমদানি করতে হয়, উৎসবের মরশুমের পরপরই পেট্রোল-ডিজেল ও এলপিজি সিলিন্ডারের চড়া দামের কোপে পড়তে চলেছে। আমেরিকার ভোট রাজনীতি আর ট্রাম্পের একঘেয়ে আগ্রাসনে এখন বিশ্বজোড়া সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়া একপ্রকার নিশ্চিত!

বিষয় : #HiddenStoriesNews #USIranWar #DonaldTrump #FuelPriceHike #StraitOfHormuz #OilCrisis #MidtermElections2026 #TehranStrikes #WorldNewsBangla #PetrolPrice #LPGGasPrice #WashingtonDC #GlobalEconomy #BanglaNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


US Iran: উৎসব মিটলেই কপালে চিন্তার ভাঁজ! ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানে কি হবে নভেম্বরে ?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ওয়াশিংটন: দুর্গাপূজা ও উৎসবের মরশুমের মুখেই চরম অশনি সংকেত বিশ্ব অর্থনীতিতে। উৎসব কেটে গেলেই রান্নাঘরের হেঁশেলে আগুন লাগার আশঙ্কায় ঘুম উড়ছে মধ্যবিত্তের। ইরান থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্ট্রেইট অব হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল ঠিকই, কিন্তু এক ফুঁয়ে সেই 'শান্তি প্রস্তাব' উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, নভেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিড-টার্ম নির্বাচন মিটলেই তেহরানের উপর আবার পুরোদমে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি শুরু করতে চলেছে ওয়াশিংটন। ফলে পারস্য উপসাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেল ও এলপিজি গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হানার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে দাবানল জ্বলছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি জোগানের প্রধান ধমনী 'স্ট্রেইট অব হরমুজ' কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এমনিতেই বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকে কাতারকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের কাছে ৭ দিনের এক 'কম্প্যাক্ট' শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান। বার্তা স্পষ্ট ছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তোলে, বাজেয়াপ্ত হওয়া অর্থ ফেরত দেয়, জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এবং লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়, তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। স্বাভাবিক হবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও।রাষ্ট্রসংঘে দাঁড়িয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঙ্কার ছেড়ে বলেছিলেন, “বল এখন আমেরিকার কোর্টে। ইরান চাপ, হুমকি বা ভয় প্রদর্শনের কাছে মাথা নত করবে না। যদি আমেরিকা সত্যি আন্তরিক হয়, তবে আমরা যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ খোলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।” এমনকি বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র পোস্ট করে সেটিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ বলেও চিহ্নিত করা হয়।কিন্তু তেহরানের সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর বিস্ফোরক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সমস্ত প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের ওপর তাঁর বিন্দুমাত্র ভরসা নেই। ইরান কখনোই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না— এই অবস্থানে অনড় থেকে ট্রাম্প তাঁর সেনাকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, নভেম্বরের নির্বাচন পর্ব মিটলেই তেহরানের বুকে পুনারায় পুরোদমে এয়ারস্ট্রাইক চালাতে হবে।মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনড় মনোভাবের মাশুল গুণতে চলেছে পুরো বিশ্ব। আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি পর্যালোচকদের মতে, যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার অর্থ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যাদের রান্নার গ্যাস (LPG) এবং জ্বালানি তেলের সিংহভাগই এই পথ দিয়ে আমদানি করতে হয়, উৎসবের মরশুমের পরপরই পেট্রোল-ডিজেল ও এলপিজি সিলিন্ডারের চড়া দামের কোপে পড়তে চলেছে। আমেরিকার ভোট রাজনীতি আর ট্রাম্পের একঘেয়ে আগ্রাসনে এখন বিশ্বজোড়া সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়া একপ্রকার নিশ্চিত!

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত