নয়াদিল্লি: ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উর্ধ্বমুখী গ্রাফের মাঝেও অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কঠিন ভাষায় নতুন ‘রেড লাইন’ টেনে দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত টানাাপোড়েনের চেয়েও ভারতের কাছে প্রধান উদ্বেগের বিষয় সন্ত্রাসবাদ।
এবং সীমান্তপার সন্ত্রাসের মোকাবিলায় ওয়াশিংটন যদি নয়াদিল্লির অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন বা সহানুভূতি না দেখায়, তবে তা দুই দেশের সম্পর্কে যে বড় প্রভাব ফেলবে! সেই বার্তা এবার অত্যন্ত কড়া ভাষায় দিয়ে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।
পাকিস্তানের নাম না করলেও নাম না করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জয়শঙ্কর জানান, বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ রয়েছে, যারা ভারতের মত দশকের পর দশক ধরে পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত প্রতিবেশী-সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে।
আর এই প্রেক্ষাপটেই আমেরিকার মত মিত্র দেশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কূটনীতিবিদদের মতে, বিগত কয়েক দশকে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্রস্থল পাকিস্তানকে ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন। যদিও সেই পাকিস্তান থেকেই ওসামা বিন লাদেনের মতো বিশ্বত্রাস জঙ্গির হদিশ মিলেছিল।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগামে ২৬ জন পর্যটককে নৃশংসভাবে হত্যার পর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ বিশ্বমঞ্চে আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছে, সরকারি মদতেই কী ভাবে পাকিস্তান সীমান্তে জঙ্গি পাঠায়।
এর পরেও বিশ্বমঞ্চের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা এফএটিএফ (FATF) পাকিস্তানকে একাধিকবার সতর্ক করেছে। রাষ্ট্রসংঘের নিয়ম মেনেই যে কোনও চিহ্নিত জঙ্গির সমস্ত আর্থিক উৎস বাজেয়াপ্ত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তা সত্ত্বেও যখন আমেরিকার মতো সহযোগী রাষ্ট্র ভারতের মৌলিক নিরাপত্তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে, তখনই তৈরি হয় টানাপোড়েন।
জয়শঙ্কর সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “আমদের জন্য যে বিষয়টি এত গভীরভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে যদি যথেষ্ট বোঝাপড়া, উপলব্ধি বা সহানুভূতির অভাব থাকে, তবে তা সমস্যার সৃষ্টি করেই। আমার অন্যতম প্রধান উদ্বেগকে যদি সহযোগী দেশ সম্পূর্ণ গুরুত্ব না দেয়, তবে স্পষ্টতই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর তার কিছুটা হলেও প্রভাব পড়বে।” জয়শঙ্করের মতে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং তাদের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সিদ্ধান্তও এই আন্তর্জাতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করছে।
বিশ্বের অধিকাংশ বড় দেশের সঙ্গেই ওয়াশিংটনের সম্পর্কে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা ভারতও করছে। জয়শঙ্কার স্পষ্ট জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই ভারতের লক্ষ্য।
কিন্তু যেসব বাস্তব সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে, সেগুলোকে অস্বীকার করা যাবে না। সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কোনো আপস না করার বার্তা দিয়ে দিল্লি বুঝিয়ে দিল, পাকিস্তানের প্রতি আমেরিকার নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি ভারত আর কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবে না।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন