গ্যাংটক : একই পাহাড়, অথচ ছবিটা যেন সম্পূর্ণ আলাদা। সিকিমের একপ্রান্তে লাগাতার বৃষ্টির জেরে ধস। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে কাদা, পাথর আর মাটির স্রোত। অন্য প্রান্তে বৃষ্টির আবহে বদলে গিয়েছে পাহাড়ের রং। সাদা বরফে ঢেকে গিয়েছে উত্তর সিকিমের উচ্চ পার্বত্য এলাকা। প্রকৃতির এমনই বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে দুই প্রান্তে।
নিম্নচাপের জেরে বৃহস্পতিবার পশ্চিম সিকিমের রিম্বিতে ধস নামে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বাড়ি, রাস্তাঘাট সহ সরকারি আবাসন। তবে রিম্বিতে এই ধসের ঘটনা নতুন নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরেই ওই এলাকায় বারবার ধসের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসনের তরফে আগেই সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। সিকিম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রিম্বির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১২৮ জনকে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছিল। নতুন ধসের জেরে রিম্বি-সহ পশ্চিম সিকিমের বেশ কিছু জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সিকিমে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা এবং শনিবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কিন্তু সিকিমের অন্য প্রান্তের ছবিটা একেবারেই ভিন্ন। বৃহস্পতিবার মরসুমের প্রথম তুষারপাতের সাক্ষী থাকল উত্তর সিকিম। উত্তর সিকিমের কালা পাথর, থাঙ্গু ভ্যালি, মুগুথাং, গুরুদোংমার লেক যাওয়ার পথ এবং ইয়ুমথাং-জিরো পয়েন্টের মতো উচ্চ পার্বত্য এলাকাতেও তুষারপাতের খবর মিলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্যাংটক থেকে ছাঙ্গুর পথে আইটিবিপি শিবিরের কাছাকাছি পর্যন্ত বরফ পড়েছে। বরফে ঢেকে গিয়েছে পাহাড়ের একাংশ। আর সেই দৃশ্য দেখতে উচ্ছ্বসিত পর্যটকেরাও।
পুজোর আর বেশি দেরি নেই। আর তার আগেই প্রকৃতির এ কী অদ্ভুত খেলা! কোথাও ধসের জেরে আতঙ্ক, আবার কোথাও মরসুমের প্রথম তুষারপাতে পাহাড় সেজে উঠেছে নতুন রূপে। তবে বৃষ্টির দাপট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। একদিকে তুষারপাত পর্যটকদের মনে আনন্দ আনলেও, পাহাড়ের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জারি রাখছে প্রশাসন।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন