Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Kalighat TMC: সংসদে ফের ব্যাকফুটে কালীঘাট, জোড়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ হারিয়ে আরও কোণঠাসা মমতার তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
Kalighat TMC: সংসদে ফের ব্যাকফুটে কালীঘাট, জোড়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ হারিয়ে আরও কোণঠাসা মমতার তৃণমূল
সংসদে আরও কোণঠাসা মমতা তৃণমূল। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে অব্যাহত পতন। বিধানসভার পর সংসদেও আরও ব্যাকফুটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আবহে এবার জাতীয় রাজনীতিতেও আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ল কালীঘাট। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে বড়সড় ধাক্কা খেল দল। 

এক ধাক্কায় তৃণমূলের হাতছাড়া হলো দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ। অন্যদিকে, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে গুরুত্বপূর্ণ কমিটির শীর্ষপদে বসিয়ে কালীঘাটের ক্ষতে রীতিমতো নুনের ছিটে দিল নয়াদিল্লি।

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগীয় সংসদীয় কমিটির পুনর্গঠনের পরেই প্রকাশ্যে এসেছে এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। রসায়ন ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় প্যানেলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মমতা-ঘনিষ্ঠ লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদকে। 

তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ তথা 'ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া' (এনসিপিআই)-র মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। অন্যদিকে, বাণিজ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধান পদ থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী।

বিধানসভা নির্বাচনের বিপর্যয়ের পর থেকেই ভাঙনের মুখে পড়ে জোড়াফুল শিবির। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলে ফাটল ধরার পর, সংসদেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই গঠন করে এনডিএ সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন। 

সংসদে আসন অদলবদল থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহদের সঙ্গে সামনের সারিতে উপস্থিতি, নয়াদিল্লির দরবারে ক্রমশ ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছিলেন বিদ্রোহী সাংসদেরা। এবার সরাসরি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাথায় কাকলিকে বসিয়ে শাসক জোট বুঝিয়ে দিল, মমতার মূল শিবিরের তুলনায় এনসিপিআই-কেই বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যদিও কাকলিদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে সাংসদ পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে রেখেছে তৃণমূল।  যার উত্তর দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। তবে আইনি বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মাঝেই তাঁদের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রদান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। 

উল্লেখযোগ্যভাবে, শশী তারুর, চরণজিৎ সিংহ চান্নি, তিরুচি শিবা কিংবা রামগোপাল বর্মার মতো অন্যান্য বিরোধী সাংসদেরা নিজ নিজ কমিটির প্রধান পদে বহাল থাকলেও, কেবল মমতার তৃণমূলকেই ছেঁটে ফেলার নীতি গ্রহণ করেছে স্পিকার ও চেয়ারম্যানের দফতর। 

সব মিলিয়ে, এক সময়ের প্রতাপশালী তৃণমূল কংগ্রেস আজ দিল্লির দরবারে কেবল পদ হারাল না, দলেরই বিদ্রোহী মুখদের কাছে সার্বভৌমত্ব হারিয়ে কার্যত ইতিহাসের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

বিষয় : #HiddenStoriesNews #MamataBanerjee #TMC #Parliament #KakoliGhoshDastidar #KirtiAzad #DolaSen #SudhanshuTrivedi #NCPI #WestBengalPolitics #BreakingNews #BengaliNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


Kalighat TMC: সংসদে ফের ব্যাকফুটে কালীঘাট, জোড়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ হারিয়ে আরও কোণঠাসা মমতার তৃণমূল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে অব্যাহত পতন। বিধানসভার পর সংসদেও আরও ব্যাকফুটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আবহে এবার জাতীয় রাজনীতিতেও আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ল কালীঘাট। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে বড়সড় ধাক্কা খেল দল। এক ধাক্কায় তৃণমূলের হাতছাড়া হলো দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ। অন্যদিকে, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে গুরুত্বপূর্ণ কমিটির শীর্ষপদে বসিয়ে কালীঘাটের ক্ষতে রীতিমতো নুনের ছিটে দিল নয়াদিল্লি।রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগীয় সংসদীয় কমিটির পুনর্গঠনের পরেই প্রকাশ্যে এসেছে এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। রসায়ন ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় প্যানেলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মমতা-ঘনিষ্ঠ লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ তথা 'ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া' (এনসিপিআই)-র মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। অন্যদিকে, বাণিজ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধান পদ থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী।বিধানসভা নির্বাচনের বিপর্যয়ের পর থেকেই ভাঙনের মুখে পড়ে জোড়াফুল শিবির। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলে ফাটল ধরার পর, সংসদেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই গঠন করে এনডিএ সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন। সংসদে আসন অদলবদল থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহদের সঙ্গে সামনের সারিতে উপস্থিতি, নয়াদিল্লির দরবারে ক্রমশ ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছিলেন বিদ্রোহী সাংসদেরা। এবার সরাসরি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাথায় কাকলিকে বসিয়ে শাসক জোট বুঝিয়ে দিল, মমতার মূল শিবিরের তুলনায় এনসিপিআই-কেই বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।যদিও কাকলিদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে সাংসদ পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে রেখেছে তৃণমূল।  যার উত্তর দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। তবে আইনি বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মাঝেই তাঁদের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রদান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, শশী তারুর, চরণজিৎ সিংহ চান্নি, তিরুচি শিবা কিংবা রামগোপাল বর্মার মতো অন্যান্য বিরোধী সাংসদেরা নিজ নিজ কমিটির প্রধান পদে বহাল থাকলেও, কেবল মমতার তৃণমূলকেই ছেঁটে ফেলার নীতি গ্রহণ করেছে স্পিকার ও চেয়ারম্যানের দফতর। সব মিলিয়ে, এক সময়ের প্রতাপশালী তৃণমূল কংগ্রেস আজ দিল্লির দরবারে কেবল পদ হারাল না, দলেরই বিদ্রোহী মুখদের কাছে সার্বভৌমত্ব হারিয়ে কার্যত ইতিহাসের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত