চন্দ্রকোনা: স্বামীর রহস্যজনক মৃত্যুর ধাক্কা ও শোক কাটার আগেই ঘর ফাঁকা পেয়ে প্রেমিককে ডেকে ঘনিষ্ঠতায় মেতে উঠেছিলেন বধূ। তবে সেই গোপন অভিসার শেষ পর্যন্ত রূপ নিল চরম গণ-উত্তেজনা ও তুলকালাম কাণ্ডে! হাতেনাতে ধরা পড়ার পর প্রেমিক যুগলকে গাছের খুঁটিতে বেঁধে, মুখে চুন মাখিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালাল ক্ষুব্ধ প্রতিবেশী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ঘটনাটি ঘিরে মারাত্মক শোরগোল ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা পৌরসভার অন্তর্গত গোঁসাই বাজার জহরপুকুর এলাকায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রকোনার ওই এলাকায় মাস তিনেক আগে নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হয় ওই বধূর স্বামীর রহস্যজনক ঝুলন্ত দেহ। তবে সেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও অধরা। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ওই মহিলা শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন ধরেই এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে ওই বধূর পরকীয়ার সম্পর্ক গভীর হয়, যা নিয়ে পাড়ায় কানাঘুষো চলছিল। সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা বাইরে থাকার সুযোগে নিজের প্রেমিককে নিজ ঘরে ডেকে পাঠান ওই মহিলা। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দু’জনে যখন ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছিলেন, ঠিক তখনই বিষয়টি নজরে পড়ে যায় প্রতিবেশীদের।
মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তে পুরো এলাকা থেকে জড়ো হয়ে যান উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তালা ভেঙে কিংবা দরজা খুলিয়ে বধূ ও তাঁর প্রেমিককে হাতেনাতে ধরে ফেলে উন্মত্ত জনতা। এরপরই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শুরু হয় অমানবিক নিগ্রহ। দু’জনকেই টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে গাছের খুঁটিতে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়। অভিযোগ, এরপর যুগলের মুখে চুন মাখিয়ে প্রকাশ্যে অপদস্ত করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চন্দ্রকোনা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং চিকিৎসার্থ ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। তবে স্বামীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত শেষ না হতেই এই ঘটনা, আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষ কীভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে চরম নির্যাতন চালাল—তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সচেতন মহলে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন