গ্রেটার নয়ডা: এক মুহূর্ত আগেও যারা নিশ্চিন্তে ঘুমের কোলে ঢলে পড়েছিলেন, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাঁদের সামনে নেমে এল বাস্তব নরককুণ্ড! উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে মধ্যরাতে ঘটল এক শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনা। দ্রুতগতিতে চলা একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে আচমকাই লেগে গেল বিধ্বংসী আগুন। আর সেই আগুনের গ্রাস থেকে বেরোনোর পথ না পেয়ে বাসের ভেতরেই জ্যান্ত দগ্ধ হয়ে করুণ মৃত্যু হল অন্তত ৯ জন যাত্রীর। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং লেলিহান শিখায় ঝলসে গিয়ে বাসের ভেতরেই চিরতরে ঘুমিয়ে পড়লেন তাঁরা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে এসি বাসটি নয়ডা থেকে মাহোবার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। মধ্যরাতের নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকারে এক্সপ্রেসওয়ে ধরে তখন দ্রুত গতিতে ছুটছিল গাড়িটি। জেওয়ার এলাকার নিকটবর্তী দয়ানটপুর গ্রামের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা বাসটির ভেতরে আগুন ধরে যায়। রাত গভীর হওয়ায় বাসের অধিকাংশ যাত্রীই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। ফলে বিপদটা ঠিক কী এবং কতটা মারাত্মক, তা বুঝে ওঠার আগেই গোটা বাস ছেয়ে যায় বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও আগুনে।
বিপদের আঁচ পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে বাসের ভেতর শুরু হয়ে যায় চরম হুড়োহুড়ি ও চিৎকার। কিন্তু চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় বেরোনোর রাস্তা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। বেঁচে ফেরার মরিয়া চেষ্টায় অনেকে বাসের কাচের জানলা ভেঙে চলন্ত গাড়ি থেকেই নিচে ঝাঁপ দেন। বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী আতঙ্কিত কণ্ঠে জানান, “আমরা সবাই ঘুমে ঢুলে পড়েছিলাম। হঠাৎই কারও চিৎকারে ঘুম ভাঙে—বাসে আগুন লেগেছে! বেরোনোর কোন পথ ছিল না, চারপাশ শুধু ধোঁয়া আর আগুন। জীবন বাঁচাতে যে যেভাবে পেরেছে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেছে।”
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের গ্রাসে বাসটি ছাই হয়ে গিয়েছে। কোনোমতে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলেও ৯ জনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড—শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। এই হাড়হিম করা দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আপাতত এক্সপ্রেসওয়ের একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে কঙ্কালসার হয়ে যাওয়া বাসটিকে, যা বয়ে চলেছে এক রুদ্ধশ্বাস ও মর্মান্তিক রাতের বীভৎস স্মৃতি।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন