25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ কাল কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠে ব্যাপক নিরাপত্তা
পশ্চিমবঙ্গ

কাল কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠে ব্যাপক নিরাপত্তা

Share
কাল কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠে ব্যাপক নিরাপত্তা
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে তারাপীঠ। নিজস্ব ছবি
Share

বীরভূম: কাল কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটতে চলেছে। মা তারার আরাধনার এই পবিত্র তিথিতে ভক্তদের নিরাপদ দর্শন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বীরভূম জেলা পুলিশের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। 

গতকাল রাতে তারাপীঠ থানা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভূদেশ বিস্তারিত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, উৎসবের দিনগুলিতে তারাপীঠে বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে এবং মন্দির চত্বরসহ সমগ্র এলাকাকে নিরাপত্তার নিটোল চাদরে মুড়ে ফেলতে জেলা পুলিশ এক বিশেষ ও বহুস্তরীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

পুলিশ সুপার জানান, পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্ন দর্শনের কথা মাথায় রেখে পুরো তারাপীঠ মন্দির ও সংলগ্ন এলাকাকে একাধিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। মন্দির প্রাঙ্গণ, শ্মশানঘাট, দ্বারকা নদীর ঘাট এবং প্রধান সড়কগুলিতে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালানো হবে। কৌশিকী অমাবস্যার দিনগুলিতে কয়েক হাজার সশস্ত্র ও সাদা পোশাকের পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবেন। 

জেলা পুলিশের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী, র‍্যাফ এবং কুইক রেসপন্স টিমও থাকবে। এই বাহিনীগুলি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম থাকবে।মন্দির চত্বর, প্রবেশপথ এবং সমগ্র তারাপীঠ শহর জুড়ে কয়েকশো সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণের ভিড় নিয়ন্ত্রণে আকাশে ড্রোন উড়িয়ে পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। ড্রোনের মাধ্যমে ভিড়ের ঘনত্ব, যানজট এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার জায়গাগুলি তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করা যাবে। 

দ্বারকা নদীতে স্নানের সময় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সিভিক ভলান্টিয়ার ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর টিম মোতায়েন থাকবে। নদীতে স্পিড বোট ও অভিজ্ঞ ডুবুরি দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নদীর ঘাটগুলিতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভক্তরা নিরাপদে পূণ্যস্নান সম্পন্ন করতে পারেন।

জনসমুদ্রের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা যাতে কোনও অসাধু কাজ করতে না পারে, তার জন্য সাদা পোশাকে বিশেষ নজরদারি দল এবং অ্যান্টি-রাউডি স্কোয়াড সার্বক্ষণিক ঘুরে বেড়াবে। এই দলগুলি ভিড়ের মধ্যে মিশে থেকে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর নজর রাখবে। উৎসব চলাকালীন তারাপীঠে ভারী যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

দূর-দূরান্ত থেকে আসা গাড়িগুলির জন্য শহরের বাইরে একাধিক সাময়িক পার্কিং জোন গড়ে তোলা হয়েছে। সেখান থেকে পুণ্যার্থীদের হেঁটে অথবা নির্দিষ্ট রুটের মাধ্যমে মন্দিরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে যানজট এড়ানো যায় এবং মন্দির এলাকায় নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত হয়।পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। 

হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি বা শিশুদের দ্রুত পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ মাইকিং ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হারানো-পাওয়া ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্র ও হেল্পলাইন নম্বরও সক্রিয় থাকবে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে। জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বর ও মেলা এলাকায় সাময়িক স্বাস্থ্যকেন্দ্রও খোলা হচ্ছে।

উৎসবে কোনো রকম গুজব ছড়ালে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তাই প্রথম অগ্রাধিকার এবং যেকোনো অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

উৎসবমুখর তারাপীঠে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও মন্দির সেবায়েত কমিটি। মা তারার ভক্তরা যাতে নিশ্চিন্তে দর্শন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই বিশাল আয়োজন। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *