25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ Nandigram by election: অবশেষে খোঁজ মিলল মিলনের, আজ আদালতে পেশ
পশ্চিমবঙ্গ

Nandigram by election: অবশেষে খোঁজ মিলল মিলনের, আজ আদালতে পেশ

Share
Nandigram by election: অবশেষে খোঁজ মিলল মিলনের, আজ আদালতে পেশ
চন্ডীপুর থেকে খোঁজ মিলল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের। ফাইল শট
Share

নন্দীগ্রাম ও কলকাতা: ভোটগ্রহণের আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। 

তার আগেই নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক পারদ। ২০০৭ সালের ১৯ বছরের পুরনো একটি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হল নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। শুক্রবার বিকেলে চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। দীর্ঘ নাটক ও টানটান উত্তেজনার পর গভীর রাতে জানা যায়, তাঁকে চণ্ডীপুর থানায় রাখা হয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল উভয় শিবিরই।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে মোট ৪টি খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। এছাড়া অস্ত্র আইন ও খুনের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে দু’টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় শুক্রবার রাতে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। শনিবার তাঁকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

তবে কংগ্রেস প্রার্থীকে ‘গোপনে’ গ্রেফতার করা নিয়ে শুক্রবার বিকেল থেকেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, গ্রেফতারের পর মিলনকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে পরিবার বা দলকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। গভীর রাতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নিজে চণ্ডীপুর থানায় পৌঁছে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রার্থীর খোঁজ পান। পুলিশ গাড়িতে থাকা অবস্থাতেই মিলন প্রধান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “ওরা (বিজেপি) ভয় পেয়েছে। নন্দীগ্রাম যে পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে, সেটা বুঝতে পেরেই এই চক্রান্ত করা হল।”

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সরব হয়ে বলেন, “২০০৭ সালের সাজানো মামলায় এতদিন উনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেন, আর যেই কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন অমনি পুলিশ ধরে নিয়ে গেল! বিজেপি আসলে হারে ভয় পেয়ে প্রহসন সৃষ্টি করছে।” উপনির্বাচনের ঠিক মুখে এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজ, শনিবার রাজ্যের প্রতিটি থানার সামনে বিক্ষোভ এবং ‘নন্দীগ্রাম চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস।

রাজনৈতিকভাবে এই উপনির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবিরের কোন্দলে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলে নতুন প্রার্থীর সময়সীমা পার হয়ে যায়। এরপরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, নন্দীগ্রামে তাঁরা বিজেপিকে হারাতে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকেই সমর্থন করবেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সমর্থনের বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলন প্রধানের এই গ্রেফতারিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কালীঘাট তৃণমূল ও কংগ্রেস, উভয় দলই একযোগে এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র ও পুলিশের যৌথ চক্রান্ত বলে দাগিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, আগামী ৬ অক্টোবরের ভোটগ্রহণ ও ৯ অক্টোবরের ফলাফলের আগে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন এখন রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *