মাদ্রিদ: একই লাইনে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আর তার পরিণতিতে মুহূর্তের মধ্যে চিরতরে স্তব্ধ ৬৮টি প্রাণ! স্পেনের তোলেদো প্রদেশে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন চরম ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। বুধবার রাতের ভয়াবহ ঘটনার পর ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী মাদ্রিদের রাস্তায়। হাজার হাজার ক্ষুব্ধ নাগরিক সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাজপথের দখল নিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চরম লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।
স্পেনীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালের দিকে তোলেদো এলাকায় চরম বিপর্যয় ঘটে। একই ট্র্যাকে চলতে থাকা দুটি ট্রেনের মধ্যে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির ট্রেনটি সামনের ট্রেনটিকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে। বিকট শব্দে ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ৬৮ জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে এবং গুরুতর আহত হন প্রায় ১৭৯ জন। এই বীভৎসতার ছবি জনসমক্ষে আসতেই দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
বুধবার রাতে মাদ্রিদে পরিবহন মন্ত্রকের সদর দফতরের সামনে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি প্রতিবাদী মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের নিশানায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। প্রতিবাদীদের মুখে শোনা যায় ‘মৃত্যুর মন্ত্রী’ এবং পুয়েন্তের কড়া শাস্তির দাবি। বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই বাড়ে যে, উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও জ্বলন্ত মশাল নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে শামিল সাধারণ মানুষের হাতে ঝুলছিল ‘অপরাধীদের শাসনব্যবস্থা নিপাত যাক’ লেখা নানা প্ল্যাকার্ড।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে পুলিশ চরম লাঠিচার্জ শুরু করে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। বিক্ষোভ থামানো গেলেও স্পেনের বুকে অসন্তোষের আগুন যে নেভেনি, তার প্রমাণ মেলে পরের পদক্ষেপেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই প্রশাসনিক গাফিলতি ও দুর্ঘটনার প্রতিবাদে দেশটির সমস্ত ট্রেন চালকরা বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। ভয়াবহ এই রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি এবং তার পরবর্তী বিক্ষোভের জেরে বর্তমানে স্পেনের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা চরম সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment