সিউড়ি: থানায় থানায় কালীপুজো আয়োজনের নির্দেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিউড়ি থানায় বিজয়ী সম্মিলনীর মঞ্চে জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতেই সব থানায় সাড়ম্বরে কালীপুজো করার বার্তা দিয়েছিলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়েও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে নারাজ তিনি। বরং সুর আরও চড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “যা বলেছি বেশ করেছি, সঙ্গত কারণ আছে বলেই বলা হয়েছে।” পুলিশি সংস্কৃতির সঙ্গে এই পুজোর গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এবার পুলিশকে বিগত জমানার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
এই বিতর্কের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রাক্তন সরকারের নীতিকে চরম কড়া ভাষায় বিঁধেছেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, থানায় থানায় কালীপুজো করার ঐতিহ্য বঙ্গ পুলিশের আজন্মকালের এক অখণ্ড সংস্কৃতির অঙ্গ। কিন্তু অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে এই সংস্কৃতিকে কোণঠাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যেমন পৃথক সংখ্যালঘু দফতর তৈরি করেছিলেন, ঠিক তেমনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্রেফ ভোটের স্বার্থে মুসলিম তোষণ করতে গিয়ে থানায় কালীপুজো বন্ধের মতো পদক্ষেপ করেছিলেন। গত কালীপুজোয় মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলার ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সনাতনী সরকারের আমলে পুলিশকে সেই অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে।
আরও পড়ুন: লালুর কাছে সনিয়া! জটের সলতে পাকানোর কাজ কি শুরু?
তবে এই কালিপুজোর নির্দেশের মধ্যে কোনো বৈষম্য বা ধর্মীয় বিভাজন দেখতে নারাজ মন্ত্রী। সিউড়ির অনুষ্ঠানে নিজের মন্তব্যের যুক্তি তুলে ধরে তিনি জানান, ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে স্বয়ং রঘু ডাকাতও কালীপুজো করতেন, কারণ তিনি শক্তির উপাসনা করতেন। একইভাগে পুলিশ বাহিনীও মূলত শক্তিরই উপাসক। যেমন রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে সরস্বতী পুজো একটি স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, তেমনই প্রতিটি থানায় শক্তির উপাসনা হিসেবে কালীপুজোও এক আবহমান ঐতিহ্য। বিশেষ করে বীরভূম জেলায় যেখানে একাধিক সতীপীঠ রয়েছে, সেখানকার পুলিশ বাহিনীতে বল ও সাহস জোগাতে কালীপুজো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই এই পদক্ষেপের মধ্যে কোনো ধর্মীয় অঙ্ক না দেখে একে পুলিশ সংস্কৃতির স্বাভাবিক পুনরুত্থান হিসেবে দেখারই আহ্বান জানান তিনি।
Leave a comment