•
Home Top-News GlennMaxwell: এক পায়ে বিশ্বজয়! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ‘আলবিদা’ গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের
Top-Newsখেলা

GlennMaxwell: এক পায়ে বিশ্বজয়! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ‘আলবিদা’ গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের

Share
ম্যাক্সওয়েলের অবসর। ফাইল ছবি
Share

ক্যানবেরা: সময়টা রাত আটটা পনেরো। 

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্যপট। ৯১ রানে ৭ উইকেট।  ক্যাঙ্গারুদের পরাজয় যখন নিশ্চিত, গ্যালারিতে যখন শুধুই হা-হুতাশ, ঠিক তখনই শুরু হয়েছিল সেই রূপকথা। 

ক্র্যাম্পে শরীর ভেঙে পড়ছে, এক পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই, আর ব্যাট দিয়ে একের পর এক আছড়ে পড়ছে ছক্কা! বাঁ পায়ের ওপর ভর করে একা হাতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১২৮ বলে ২০১ রানের সেই ‘মহাজাগতিক’ ইনিংস হয়তো আজীবন লেখা থাকবে ক্রিকেট ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে। 

কিন্তু আর কখনও সেই রুদ্ররূপ, সেই বাঁহাত-ডানহাতের ব্যাক-ফুট সুইচ শট বা শরীর নিংড়ানো ঝোড়ো তাণ্ডব দেখা যাবে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে। ১৪ বছরের, রঙিন ও বিধ্বংসী আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে অবশেষে ইতি টানলেন ৩৮ বছরের অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস ম্যাক্সওয়েল।

সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া ও পডকাস্টের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন অজিদের ভালবাসার ‘দ্য বিগ শো’। এর আগেই গত বছর ওডিআই এবং সম্প্রতি ঘরোয়া লিস্ট-এ ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তিন ফর্ম্যাট থেকেই সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ালেন এই আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম বিনোদনকারী।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপে ভারতের ‘সুইস আর্মি নাইফ’ কি ঈশান? 

১৪ বছরের যাত্রা ও ট্রফির ডাবল-ধামাকা

২০১২ সালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক ঘটেছিল এই ডানহাতি অলরাউন্ডারের। তারপর থেকে গত ১৪ বছর ধরে অজি মিডল অর্ডারের মেরুদণ্ড এবং বিশ্বের সমস্ত বোলারের ত্রাস ছিলেন তিনি। লাল বলের ক্রিকেটে মাত্র ৭টি টেস্ট খেললেও (যেখানে শেষ টেস্ট খেলেন ২০১৭ সালে), সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বজয়ী সফরের প্রতিটিতেই ম্যাক্সওয়েল ছিলেন চালিকাশক্তি। ২০১৫ ও ২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের পরিসংখ্যান এক নজরে:

  • মোট ম্যাচ: ২৮৬
  • মোট রান: ৭,২২৬ (১০টি শতরানসহ)
  • উইকেট: ১৩৬
  • একদিবসীয় কেরিয়ার: ১৪৯ ম্যাচে ৩,৯৯০ রান (স্ট্রাইক রেট ১২৬.৭)
  • টি-টোয়েন্টি কেরিয়ার: ১৩০ ম্যাচে ২,৮৯৭ রান (স্ট্রাইক রেট ১৫৪.৪)

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চের পর ম্যাক্সওয়েলই অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। শুধু তা-ই নয়, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বাধিক ৫টি শতরানের মালিকও তিনি।

“শরীরকে আর টানা যাচ্ছিল না…”

অবসরের নেপথ্য কারণ নিয়ে বলতে গিয়ে এক পডকাস্টে ম্যাক্সওয়েল অত্যন্ত খোলামেলাভাবে জানান, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দল পরিচালন সমিতির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার কথা উঠছিল। আমরা বাংলাদেশেও দেখেছি নতুন ছেলেরা এসে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে। এটাই সঠিক সময়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “জীবনের এই পর্যায়ে এসে মনে হচ্ছে, কেরিয়ারের বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে সেরাটা দেওয়ার জন্য শরীরকে অতিরিক্ত সময় ও যত্ন দেওয়া দরকার। ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ একদিবসীয় ম্যাচটা খেলার পর যখন সতীর্থদের অবসরের সিদ্ধান্তটা জানাই, সত্যি বলতে গলাটা যেন একটু দলা পাকিয়ে এসেছিল। ভেবেছিলাম এতটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ব না।”

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদায়, তবে চলবে ‘বিগ শো’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওমানের বিরুদ্ধে কেরিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন ম্যাক্সওয়েল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও মেলবোর্ন স্টারসের হয়ে বিগ ব্যাশ লিগে ২০২৭-২৮ মরসুম পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে তাঁর। ফলে গ্যালারিতে ম্যাক্সওয়েল-ঝড় দেখতে পাওয়ার সুযোগ এখনই সম্পূর্ণ শেষ হচ্ছে না।

বিশ্ব ক্রিকেটে বহু বিধ্বংসী ব্যাটার এসেছেন এবং গিয়েছেন, কিন্তু গ্লেন ম্যাক্সওয়েল যে ঘরানার আক্রমণাত্মক ও অগতানুগতিক ক্রিকেটের সূচনা করেছিলেন, তা আগামী বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। এক যুগ ধরে বাইশ গজে যে বিনোদনের ডালি তিনি সাজিয়ে রেখেছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিশ্চিতভাবেই তাঁকে মিস করবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *