কলকাতা: নাবালিকা মেয়ের বিয়ের খবর বেমালুম চেপে গিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতানোর লোভে পুলিশের দ্বারস্থ হতেই ফাঁস হয়ে গেল সমস্ত কুকীর্তি। শেষ পর্যন্ত নাবালিকা বিয়ে দেওয়া ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হরিদেবপুর থানার পুলিশের হাতে রবিবার গ্রেফতার হলেন কিশোরীর বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। জামাই এবং বেয়ানের পাশাপাশি শ্রীঘরে যেতে হল খোদ নাবালিকার বাবাকেও।
পুলিশ সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালির বাসিন্দা ওই কিশোরী প্রায় দেড় মাস আগে হরিদেবপুরের এক তরুণের হাত ধরে পালিয়ে বিয়ে করে। পাত্রী নাবালিকা জেনেও শাশুড়ি ঘটা করে নতুন বউ বরণ করে নেন। এর মধ্যেই রাজ্য সরকারের ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের টাকা নাবালিকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকে। টাকার খবর পেতেই মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে বাবা সাফ জানিয়ে দেন, মেয়ে ফিরে না এলেও চলবে, কিন্তু প্রতি মাসে সরকারি প্রকল্পের টাকা তাঁর চাই-ই চাই। তবে কিশোরী সেই টাকা তুলতে বাপের বাড়ি যেতে অস্বীকার করায় ফন্দি আঁটেন বাবা। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে গিয়ে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপর সেই সংস্থার মাধ্যমে হরিদেবপুর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে ওই ‘বালিকা বধূ’কে। পকসো ও নাবালিকা বিয়ের অভিযোগে তখনই গ্রেফতার করা হয় কিশোরীর স্বামী ও শাশুড়িকে।
তবে নাটকীয় মোড় নেয় এর ঠিক পরেই। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, দেড় মাস আগে নাবালিকা মেয়ে নিখোঁজ হলেও বাবার তরফে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি বা অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। বিয়ের খবর জেনেও তিনি এতদিন চুপ ছিলেন, অথচ সরকারি ভাতার টাকা নিজের কব্জায় পেতেই এনজিও ও পুলিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। নাবালিকা বিয়ের তথ্য গোপন ও তাতে মদত দেওয়ার অপরাধে মেয়ের বাবাকেও সমানভাবে অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন