জলপাইগুড়ি: বাবা হলেন সন্তানের আসল রক্ষক, আর সেই পরম আশ্রয়ের মানুষটিই যদি ভক্ষকের রূপ নেয়, তবে সেই অপরাধ কোনোভাবেই লঘু করে দেখার সুযোগ নেই। নিজের নাবালিকা মেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে কালিম্পংয়ের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রেখে এমনই কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যাঁর কাছ থেকে নিরাপত্তা ও স্নেহ পাওয়ার কথা, তিনি যখন সম্পর্ককে অপব্যবহার করে ভয় দেখান, তখন অপরাধের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। গত ২৮ আগস্ট অভিযুক্তর আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই বহাল রাখে আদালত।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে কালিম্পংয়ের গরুবাথান এলাকায় নিজের প্রায় ১৫ বছর বয়সি মেয়েকে লাগাতার যৌন নির্যাতন চালায় জীবন রাই নামের ওই অভিযুক্ত। পাশবিক নির্যাতনের জেরে একপর্যায়ে নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং ২০১৭ সালের নভেম্বরে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। পরিবারের এক নিকট আত্মীয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ট্রায়াল কোর্ট পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় তাকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও চার বছরের জেলের সাজা শোনায়। নিম্ন আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল দোষী বাবা।
হাই কোর্টে শুনানির সময় অভিযুক্ত দাবি করে যে নাবালিকার বয়স ঠিকমতো প্রমাণ হয়নি এবং নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়নি। তবে সেই সওয়াল খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, জন্মের শংসাপত্র ও চিকিৎসকের বয়ান অনুযায়ী ঘটনার সময় নির্যাতিতা স্পষ্টতই নাবালিকা ছিল। তাছাড়া শুধুমাত্র ডিএনএ পরীক্ষা না হওয়া কোনো অপরাধীকে খালাস দেওয়ার যুক্তি হতে পারে না। যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে নির্যাতিতার সাক্ষ্য বিশ্বাসযোগ্য ও সঙ্গতিপূর্ণ হলে তার ভিত্তিতেই সাজা বহাল রাখা আইনত সম্পূর্ণ বৈধ। ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন সাজাই বহাল রেখে কড়া বার্তা দিল উচ্চ আদালত।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন