হাওড়া: শহরের জনবহুল পিলখানার এঁদো গলিতে অবশেষে মিলল জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের গোপন আস্তানা! রবিবার সকালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসটিএফ (STF) উদ্ধার করেছে হামিমের সেই রহস্যময় ডেরা। ওপর ওপর দেখলে মনে হতো সেখানে বারকোড, প্রিন্টিং ও স্মার্ট আইডি কার্ড তৈরির নিরীহ ব্যবসা চলছে, কিন্তু সেই ছাপাখানার আড়ালেই কি লুকিয়ে ছিল কোনো বড়সড় ধ্বংসাত্মক চক্রান্ত? নাকি ওই ঠিকানা থেকেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির ওপর চালানো হচ্ছিল কড়া নজরদারি? তদন্তে নেমে এখন এই বিস্ফোরক প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।
কয়েক দিন আগেই বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয় কাশ্মীরের সঙ্গে যোগ থাকা জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে। তাকে জেরা করে পিলখানায় ডেরার কথা জানতে পারলেও এলাকাটি খুঁজে পেতে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয় তদন্তকারীদের। অবশেষে আলম মিস্ত্রি লেনের ‘গ্যালাক্সি হাউস’ নামে এক বহুতলের একতলার একটি ফ্ল্যাটে হানা দেয় এসটিএফ। সেখানে তল্লাশি চালানোর পর আপাতত আস্তানাটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানতেন, হামিম ও তার বাবা সেখানে আইডি কার্ড ও বারকোড প্রিন্টিংয়ের কাজ করত। তবে এমন এক সাধারণ ব্যবসার আড়ালে যে ভয়ঙ্কর জঙ্গি গতিবিধি চলছিল, তা জেনে রীতিমতো আতঙ্কে এলাকাবাসী।
এদিকে এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে হামিমের বাবার রহস্যময় নিখোঁজ থাকা। স্থানীয়দের দাবি, গত দশ দিন ধরে হামিমের বাবাকে এলাকায় দেখা যায়নি। এমনকি যিনি বাবা পরিচয়ে সঙ্গে থাকতেন, তিনি সত্যি হামিমের জন্মদাতা পিতা নাকি ছদ্মবেশে চক্রের অন্য কোনো সদস্য ছিলেন—তা নিয়েও দানা বাঁধছে গভীর ধোঁয়াশা। সাধারণ ব্যবসার নাম করে কীভাবে জঙ্গি নেটওয়ার্ক চালানো হচ্ছিল এবং বিরোধী দলনেতার ওপর নজরদারির ছক কতটা গভীরে শিকড় ছড়িয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও এসটিএফ।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন