Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘এবার দুবাই না পাকিস্তান?’ জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে বসেই কি পালানোর মহড়া চালাচ্ছিল আফতাব? মোবাইল রহস্যের জট খুলতে নামল ফরেনসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
‘এবার দুবাই না পাকিস্তান?’ জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে বসেই কি পালানোর মহড়া চালাচ্ছিল আফতাব? মোবাইল রহস্যের জট খুলতে নামল ফরেনসিক
আফতাব আনসারি। ছবি-সংগৃহীত

কলকাতা: কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা জেলের অন্ধকারের ভেতর থেকেই কি চলছিল দেশজুড়ে নতুন কোনও নাশকতার মারাত্মক নীল নকশা? প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতর আমেরিকান সেন্টারে হামলার মূল চক্রী তথা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি আফতাব আহমেদ আনসারির সেলে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের। কুখ্যাত এই বন্দির কুঠুরি থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি স্মার্টফোন, একটি ঝাঁ-চকচকে আইফোন, দুটি ওয়াইফাই রাউটার, একটি হটস্পট ডিভাইস, ১২৮ জিবির পেন ড্রাইভ, ওটিজি অ্যাডাপ্টার, কার্ড রিডার এবং নগদ ৩১ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর সেলে এত পরিমাণ উন্নত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং নগদ পৌঁছল, তা নিয়ে জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই চরম প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

গোয়েন্দাদের মূল মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে আফতাবের উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলিতে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো একাধিক এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ। শুধুমাত্র পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য এতগুলি উচ্চপ্রযুক্তির গ্যাজেট ব্যবহারের যুক্তি কোনওভাবেই মানতে পারছেন না তদন্তকারীরা। জেলে বসে পাকিস্তানের কোনও জঙ্গি সংগঠন কিংবা আন্তর্জাতিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধার হওয়া সমস্ত গ্যাজেট ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাবতীয় কল রেকর্ডস এবং মুছে ফেলা মেসেজ। এতদিন ধরে জেলে আফতাবের সঙ্গে কারা দেখা করতে আসতেন এবং অন্যান্য বন্দিদের মধ্যে কাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল, তাঁদের চিহ্নিত করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে আরও একটি মারাত্মক দিক। এর আগে জেলের ভেতর কম্পিউটার ব্যবহারের আর্জি জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল এই দাগি জঙ্গি। তাই রাউটার ও হটস্পট জোগাড় করে সে কার্যত জেল থেকেই পালিয়ে পাকিস্তান বা দুবাইয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার কোনও আন্তর্জাতিক ছক কষছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না দুঁদে গোয়েন্দারা। কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলা এবং খাদিম কর্তা অপহরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই কুখ্যাত অপরাধীর সেলের নিরাপত্তা রাতারাতি আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলেই তাকে মুখোমুখি বসিয়ে কড়া জেরা চালাচ্ছেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BreakingNews KolkataNews terrornetwork HiddenStoriesNews KolkataPolice CRIMEINVESTIGATION securitybreach presidencyjail AftabAnsari

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


‘এবার দুবাই না পাকিস্তান?’ জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে বসেই কি পালানোর মহড়া চালাচ্ছিল আফতাব? মোবাইল রহস্যের জট খুলতে নামল ফরেনসিক

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কলকাতা: কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা জেলের অন্ধকারের ভেতর থেকেই কি চলছিল দেশজুড়ে নতুন কোনও নাশকতার মারাত্মক নীল নকশা? প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতর আমেরিকান সেন্টারে হামলার মূল চক্রী তথা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি আফতাব আহমেদ আনসারির সেলে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের। কুখ্যাত এই বন্দির কুঠুরি থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি স্মার্টফোন, একটি ঝাঁ-চকচকে আইফোন, দুটি ওয়াইফাই রাউটার, একটি হটস্পট ডিভাইস, ১২৮ জিবির পেন ড্রাইভ, ওটিজি অ্যাডাপ্টার, কার্ড রিডার এবং নগদ ৩১ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর সেলে এত পরিমাণ উন্নত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং নগদ পৌঁছল, তা নিয়ে জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই চরম প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।গোয়েন্দাদের মূল মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে আফতাবের উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলিতে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো একাধিক এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ। শুধুমাত্র পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য এতগুলি উচ্চপ্রযুক্তির গ্যাজেট ব্যবহারের যুক্তি কোনওভাবেই মানতে পারছেন না তদন্তকারীরা। জেলে বসে পাকিস্তানের কোনও জঙ্গি সংগঠন কিংবা আন্তর্জাতিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধার হওয়া সমস্ত গ্যাজেট ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাবতীয় কল রেকর্ডস এবং মুছে ফেলা মেসেজ। এতদিন ধরে জেলে আফতাবের সঙ্গে কারা দেখা করতে আসতেন এবং অন্যান্য বন্দিদের মধ্যে কাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল, তাঁদের চিহ্নিত করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।তদন্তকারীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে আরও একটি মারাত্মক দিক। এর আগে জেলের ভেতর কম্পিউটার ব্যবহারের আর্জি জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল এই দাগি জঙ্গি। তাই রাউটার ও হটস্পট জোগাড় করে সে কার্যত জেল থেকেই পালিয়ে পাকিস্তান বা দুবাইয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার কোনও আন্তর্জাতিক ছক কষছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না দুঁদে গোয়েন্দারা। কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলা এবং খাদিম কর্তা অপহরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই কুখ্যাত অপরাধীর সেলের নিরাপত্তা রাতারাতি আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলেই তাকে মুখোমুখি বসিয়ে কড়া জেরা চালাচ্ছেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত