নয়াদিল্লি: বিপুল জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম প্রেমীদের জন্য চরম দুঃসংবাদ। এবার এই প্ল্যাটফর্মের ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল দিল্লি হাইকোর্ট। কেন্দ্রের মোদি সরকারের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তেই পূর্ণ সায় দিয়ে দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই অ্যাপটিকে নিষিদ্ধ করার পিছনে সরকারের কাছে যথেষ্ট এবং অকাট্য কারণ রয়েছে। উল্লেখ্য, NEET UG পরীক্ষার ঠিক মুখে অ্যাপের ওপর আরোপিত কেন্দ্রের এই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শুক্রবার সেই মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেল তারা। বিচারপতি তেজস কারিয়া স্পষ্ট ভাষায় জানান, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে অসদুপায় অবলম্বন আটকাতে কেন্দ্রের জারি করা এই নির্দেশ একেবারেই 'যুক্তিসঙ্গত'। তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৬৯এ-এর অধীনে জারি করা এই সরকারি পদক্ষেপকে কোনোভাবেই অযৌক্তিক বলা যায় না। ফলে আদালতের রায়ে আপাতত ২২ জুন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধই থাকছে টেলিগ্রাম এবং আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এর ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত থাকবে।
টেলিগ্রামকে নিয়ে আদালতে কেন্দ্রের পেশ করা রিপোর্টটি কিন্তু অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। সরকারি আইনজীবীরা আদালতে সাফ দাবি করেন, টেলিগ্রাম এখন আর সাধারণ মেসেজিং অ্যাপ নেই, এটি আসলে অপরাধীদের ‘নতুন ডার্ক ওয়েব’ বা অন্ধকার জগৎ হয়ে উঠেছে। শুধু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেনাবেচা বা লিক হওয়াই নয়, এই প্ল্যাটফর্মকে হাতিয়ার করে রমরমিয়ে চলছে আন্তর্জাতিক ড্রাগ র্যাকেট, মারাত্মক সাইবার ক্রাইম এবং নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফিক ভিডিও আদানপ্রদানের মতো একাধিক মারাত্মক বেআইনি কাজ। বিশেষ করে NEET-UG রি-টেস্টের আগে টেলিগ্রামের কিছু নির্দিষ্ট চ্যানেলে 'প্রশ্নফাঁস হয়েছে' বলে ভুয়ো দাবি করে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার এক বিশাল প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। সরকারের যুক্তি ছিল, প্রশ্ন আসলেও ফাঁস হয়েছে কি না সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু 'লিক হয়েছে' বলে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি চালানো এবং পরীক্ষার্থীদের ঠকানো রুখতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।
আদালতে নিজেদের সপক্ষে জোরদার সওয়াল করেছিল টেলিগ্রাম সংস্থাও। তাদের আইনজীবীদের প্রধান যুক্তি ছিল, প্ল্যাটফর্মের কয়েকজন অপরাধমনস্ক ব্যবহারকারীর অপকর্মের জন্য পুরো ভারতের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের ব্যবহার করা একটি প্ল্যাটফর্মকে এভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। এতে কোটি কোটি নাগরিকের তথ্য পাওয়ার এবং মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকারে বড় আঘাত লাগছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি দাবি করে যে তারা ইতিমধ্যেই সরকারের আপত্তিকর শত শত সন্দেহজনক লিঙ্ক ও কনটেন্ট ডিলিট করে দিয়েছে। তবে টেলিগ্রামের এই সাফাইয়ে একটুও গলেনি আদালত। বিচারপতি তেজস কারিয়া সাফ জানিয়ে দেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারের এই সতর্কতামূলক অবস্থান বা 'ন্যূনতম বিধিনিষেধ' অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। ফলে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ক্ষোভের মাঝেই আপাতত বন্ধই থাকছে টেলিগ্রামের দরজা।
বিষয় : delhihighcourt NEETUG2026 telegramban

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন