Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ফলের বাগান বাঁচাতে পাতা হয়েছিল মরণফাঁদ! ঝাড়গ্রামে হাতির মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাজস্থান থেকে পাকড়াও হোমস্টে মালিক

ফলের বাগান বাঁচাতে পাতা হয়েছিল মরণফাঁদ! ঝাড়গ্রামে হাতির মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাজস্থান থেকে পাকড়াও হোমস্টে মালিক
ছবি সংগৃহীত

ঝাড়গ্রাম: বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাতের আবহে এবার এক পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড় ঝাড়গ্রাম। হাতির করিডোর হিসেবে পরিচিত গড় শালবনি এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতির মৃত্যুর ঘটনায় শেষরক্ষা হলো না অপরাধীর।


 ঘটনার পর থেকে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গা ঢাকা দিয়ে থাকা বিলাসবহুল হোমস্টে ‘কৌশলা হেরিটেজ’-এর মালিক মহেশ মেহেরাকে অবশেষে সুদূর রাজস্থানের জয়পুর থেকে গ্রেপ্তার করল ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পুলিশের এই ঝটিকা অ্যাকশন এবং ভিন্ন রাজ্য থেকে প্রভাবশালী মালিককে খাঁচায় পোড়ার ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে।


ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৯ মে। গড় শালবনি এলাকায় অবস্থিত ‘কৌশলা হেরিটেজ’ হোমস্টের নিজস্ব একটি বড় ফলের বাগান রয়েছে। সেই বাগানেই আচমকা একটি বিশালাকায় পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বনদফতরের আধিকারিকরা এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠালে এক হাড়হিম করা তথ্য সামনে আসে। 


রিপোর্টে স্পষ্ট জানা যায়, তীব্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে হাতিটির। অভিযোগ ওঠে, বাগানের দামি ফল বন্য হাতির হাত থেকে রক্ষা করতে হোমস্টে চত্বরের চারিদিকে বেআইনিভাবে ও অত্যন্ত বিপজ্জনক উপায়ে খোলা বিদ্যুতের তার বিছিয়ে হাইভোল্টেজ মরণফাঁদ তৈরি করে রাখা হয়েছিল। আর সেই তারের সংস্পর্শে আসতেই ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অবলা পশুটি।


ফরাক্কায় ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু বাইক আরোহীর, রক্তাক্ত ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক


পবিত্র বন্যপ্রাণের এমন মর্মান্তিক পরিণতির পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন ঝাড়গ্রামের পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পরই পুলিশ হোমস্টের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করলেও মূল চক্রী তথা মালিক মহেশ মেহেরা নিজের মোবাইল বন্ধ করে রাজ্য ছেড়ে চম্পট দেন। ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জানতে পারে যে অভিযুক্ত মালিক রাজস্থানের জয়পুরে আত্মগোপন করে রয়েছেন। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে পুলিশের টিম জয়পুরে হানা দিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে ঝাড়গ্রামে নিয়ে আসে। মঙ্গলবার ধৃত মহেশ মেহেরাকে ঝাড়গ্রাম আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তদন্তের স্বার্থে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেন।


ঝাড়গ্রামে হাতির ওপর এমন নির্মম অত্যাচার অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৪ সালেও ঝাড়গ্রাম শহরে ঢুকে পড়া পাঁচটি হাতির একটি দলের ওপর হুলাপার্টির জ্বলন্ত রডের হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় বিনোদন দুনিয়ার তারকা থেকে শুরু করে আমজনতা রাস্তায় নেমে তৎকালীন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। সেই কুখ্যাত ঘটনার স্মৃতি রাজ্যবাসীর মন থেকে মুছে যাওয়ার আগেই, এবার ফলের বাগানের লোভে বিদ্যুতের তার দিয়ে যেভাবে আরও একটি দাঁতালকে নৃশংসভাবে মারা হলো, তা ফের একবার মানুষের লালসা ও নিষ্ঠুরতার প্রমাণ দিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত, তা জানতে ধৃত মালিককে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিষয় : WestBengalPolitics JHARGRAMNEWS elephantdeath animalcruelty

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


ফলের বাগান বাঁচাতে পাতা হয়েছিল মরণফাঁদ! ঝাড়গ্রামে হাতির মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাজস্থান থেকে পাকড়াও হোমস্টে মালিক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image
ঝাড়গ্রাম: বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাতের আবহে এবার এক পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড় ঝাড়গ্রাম। হাতির করিডোর হিসেবে পরিচিত গড় শালবনি এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতির মৃত্যুর ঘটনায় শেষরক্ষা হলো না অপরাধীর। ঘটনার পর থেকে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গা ঢাকা দিয়ে থাকা বিলাসবহুল হোমস্টে ‘কৌশলা হেরিটেজ’-এর মালিক মহেশ মেহেরাকে অবশেষে সুদূর রাজস্থানের জয়পুর থেকে গ্রেপ্তার করল ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পুলিশের এই ঝটিকা অ্যাকশন এবং ভিন্ন রাজ্য থেকে প্রভাবশালী মালিককে খাঁচায় পোড়ার ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে।ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৯ মে। গড় শালবনি এলাকায় অবস্থিত ‘কৌশলা হেরিটেজ’ হোমস্টের নিজস্ব একটি বড় ফলের বাগান রয়েছে। সেই বাগানেই আচমকা একটি বিশালাকায় পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বনদফতরের আধিকারিকরা এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠালে এক হাড়হিম করা তথ্য সামনে আসে। রিপোর্টে স্পষ্ট জানা যায়, তীব্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে হাতিটির। অভিযোগ ওঠে, বাগানের দামি ফল বন্য হাতির হাত থেকে রক্ষা করতে হোমস্টে চত্বরের চারিদিকে বেআইনিভাবে ও অত্যন্ত বিপজ্জনক উপায়ে খোলা বিদ্যুতের তার বিছিয়ে হাইভোল্টেজ মরণফাঁদ তৈরি করে রাখা হয়েছিল। আর সেই তারের সংস্পর্শে আসতেই ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অবলা পশুটি।ফরাক্কায় ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু বাইক আরোহীর, রক্তাক্ত ১২ নম্বর জাতীয় সড়কপবিত্র বন্যপ্রাণের এমন মর্মান্তিক পরিণতির পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন ঝাড়গ্রামের পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পরই পুলিশ হোমস্টের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করলেও মূল চক্রী তথা মালিক মহেশ মেহেরা নিজের মোবাইল বন্ধ করে রাজ্য ছেড়ে চম্পট দেন। ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জানতে পারে যে অভিযুক্ত মালিক রাজস্থানের জয়পুরে আত্মগোপন করে রয়েছেন। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে পুলিশের টিম জয়পুরে হানা দিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে ঝাড়গ্রামে নিয়ে আসে। মঙ্গলবার ধৃত মহেশ মেহেরাকে ঝাড়গ্রাম আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তদন্তের স্বার্থে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেন।ঝাড়গ্রামে হাতির ওপর এমন নির্মম অত্যাচার অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৪ সালেও ঝাড়গ্রাম শহরে ঢুকে পড়া পাঁচটি হাতির একটি দলের ওপর হুলাপার্টির জ্বলন্ত রডের হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় বিনোদন দুনিয়ার তারকা থেকে শুরু করে আমজনতা রাস্তায় নেমে তৎকালীন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। সেই কুখ্যাত ঘটনার স্মৃতি রাজ্যবাসীর মন থেকে মুছে যাওয়ার আগেই, এবার ফলের বাগানের লোভে বিদ্যুতের তার দিয়ে যেভাবে আরও একটি দাঁতালকে নৃশংসভাবে মারা হলো, তা ফের একবার মানুষের লালসা ও নিষ্ঠুরতার প্রমাণ দিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত, তা জানতে ধৃত মালিককে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার