কলকাতা: তারাতলার ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ চব্বিশ ঘণ্টা। এখনও সেখানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চললেও, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর ঠিক কতজন অসহায় শ্রমিক চাপা পড়ে রয়েছেন, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে কালঘাম ছুটছে প্রশাসনের। কারণ, এত বড় একটি গুদাম এবং কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের কাজ চললেও সেখানে শ্রমিকদের নাম-পরিচয় নথিভুক্ত করার কোনো খাতা বা রেজিস্টারই রাখা হয়নি। ফলে নিখোঁজ শ্রমিকদের তথ্যের খোঁজে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সিটের তদন্তকারীদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশের এই বিস্ফোরক তদন্তের কথা সটান জানিয়ে দিয়েছেন অ্যাডিশনাল সিপি ক্রাইম কুণাল আগরওয়াল।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের থেকে এই বিশাল জায়গাটি লিজ নিয়েছিল শম্ভুনাথ বহেরা নামের এক ব্যক্তি। আগে ‘বহেরা ব্রাদার্স’ নামে তিন ভাইয়ের অংশীদারী সংস্থা থাকলেও, পরবর্তীতে শম্ভুনাথ নিজেই এর একক মালিক বনে যান। তিনিই ওই জায়গায় ঠিকাদারি সংস্থা ‘অয়ন ট্রেডার্স’-কে দিয়ে গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজ তৈরির বেআইনি খেলা চালাচ্ছিলেন, যার দায়িত্বে ছিলেন আসগার হোসেন নামের এক ব্যক্তি।
তারাতলায় লাশের মিছিল, লাফিয়ে বাড়ল মৃত্যু! বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর বড় ঘোষণা
পুলিশ জানিয়েছে, এই ভয়াবহ ধসে আসগার হোসেনের নিজেরও মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক থানায় অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এদিকে বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলকাতা পুরসভাই এই গুদামটির অনুমোদন দিয়েছিল। ফলে এই বিপর্যয়ের শিকড়ে পৌঁছাতে এবার পুরসভার দেওয়া অনুমোদনের নথি চেয়েছে লালবাজার এবং প্রয়োজনে পুর-ইঞ্জিনিয়ারদেরও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হবে।
এই রক্তহিম করা বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১১ জন শ্রমিক। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পাপ্পুকুমার রজক, ঘি কুমার, আসগার হোসেন, সাহিল সর্দার, হাসান ইমাম, গণেশ কালান্দি এবং নবীন সিং। অন্যদিকে, ধ্বংসস্তূপ থেকে কোনোমতে জীবিত উদ্ধার হওয়া ১৯ জন শ্রমিক বর্তমানে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসাধীন জখমদের তালিকায় রয়েছেন দুর্বাশা মাল্লাহ, মণিচাঁদ কুমার, শহিদ কুমার, বিশ্ব প্রকাশ, রাজেশ রুইদাস, বোদন মুণ্ডা, রাজেন্দ্র রাও, রামপ্রসাদ চৌধুরী, মহম্মদ আবিদ খান, সূরজ চৌধুরী, জওহর আলি গায়েন, দেবাশিস দাস, আরমান খান, সন্দীপ পাণ্ডে, মুস্তাকিন গায়েন, রাজকুমার রজক, কার্তিক পাত্র, খালেক সর্দার এবং মান্নু কুমার। কোনো খাতা না থাকায় এখনও কত পরিবার যে তাঁদের পরিজনের খোঁজে ডুকরে কাঁদছেন, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন