মালদহ: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দিকে দিকে নেতাদের দুর্নীতি, তোলাবাজির জেরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যখন চরমে, তখনই জোড়াফুল শিবিরে বড়সড় আঘাত হেনে দল ছাড়লেন গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী তৃণমূল প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাস। রবিবার মালদহ টাউন হলে এক জমকালো অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের দক্ষিণ মালদহের সাংসদ তথা জেলা সভাপতি ইশা খান চৌধুরী এবং শীর্ষ কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নূরের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাত শিবিরে যোগ দেন তিনি। দল ছাড়ার পরেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রসেনজিৎ স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের শাসনকালে দলের নেতাদের এত দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি তিনি আর কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলেন না। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গাজোলে তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করে বিজেপির কাছে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর এই দলবদল মালদহের রাজনীতিতে বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে দিল।
রাজনৈতিক মহলে প্রসেনজিৎ দাসের এই দলবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি আদতে কংগ্রেসের হাত ধরেই নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ইংলিশবাজার পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। শুধু তাই নয়, ইংলিশবাজার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ দীর্ঘদিন ধরে মালদহ জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমানে তাঁর মা ছবি দাসও ওই ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। এমন এক প্রভাবশালী নেতার ফের নিজের পুরনো দলে ফিরে আসায় মালদহের রাজনৈতিক অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী মৌসম নূর দাবি করেছেন, প্রসেনজিতের এই প্রত্যাবর্তনে মালদহ জেলা জুড়ে কংগ্রেস সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে দল নতুন গতি পাবে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের চরম ভরাডুবির পর থেকেই দলটির অস্তিত্ব এখন সংকটে। একদিকে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি—একাধিক অভিযোগে দিকে দিকে গ্রেপ্তার হচ্ছেন জোড়াফুলের হেভিওয়েট নেতারা, অন্যদিকে ক্ষুব্ধ আমজনতার তাড়া খেয়ে দুর্নীতিগ্রস্তদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে একে একে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন বিশ্বস্ত নেতানেত্রীরা। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তারা এই মুহূর্তে অন্য দল থেকে আসা কোনও নেতাকে দলে নেওয়া বন্ধ রেখেছে বলেই তৃণমূল কোনওরকমে টিকে আছে; যেদিন বিজেপি এই যোগদান পর্বের দরজা খুলবে, সেদিন তৃণমূল দলটাই রাজ্য থেকে পুরোপুরি মুছে যাবে। এই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই প্রসেনজিৎ দাসের কংগ্রেসে যোগদান তৃণমূলের কফিনে আরও একটি বড় পেরেক পুঁতে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন