Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বিশ্বকাপের মাঠে হঠাৎই নৌকা বাইতে শুরু করলেন হালান্ডরা! ফুটবল দুনিয়া কাঁপানো ‘ভাইকিং রো’-এর পিছনে রয়েছে কোন ভয়ঙ্কর ইতিহাস?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের মাঠে হঠাৎই নৌকা বাইতে শুরু করলেন হালান্ডরা! ফুটবল দুনিয়া কাঁপানো ‘ভাইকিং রো’-এর পিছনে রয়েছে কোন ভয়ঙ্কর ইতিহাস?
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার নকআউটের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে মহানাটকীয় জয়ের পর গ্যালারিজুড়ে যখন উল্লাস, তখনই মাঠের মাঝে অদ্ভুত এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বিশ্বফুটবল। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডরা ম্যাচ শেষ হতেই মাঠের ঘাসের ওপর লাইনে বসে হঠাৎ করেই একসঙ্গে নৌকা বাওয়ার অভিনয় করতে শুরু করলেন। গ্যালারি থেকে হাজার হাজার নরওয়েজিয়ান সমর্থকও ড্রামের তালে সমস্বরে গলা মিলিয়ে মেতে উঠলেন সেই উৎসবে। মুহূর্তের মধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে নরওয়ে দলের এই বিশেষ উদযাপন, যার অফিশিয়াল নাম ‘ভাইকিং রো’ (Viking Row)। কিন্তু ফুটবল মাঠের এই অদ্ভুত নৌকা বাওয়ার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোন প্রাচীন ইতিহাস?

৯৬ মিনিটের রূপকথা!নেইমার ছাড়াই ' রাউন্ড অফ ১৬'-ব্রাজিল!


বিশ্ব ফুটবলে সমর্থকদের দলবদ্ধ সেলিব্রেশন নতুন কিছু নয়। এর আগে ইউরো বা বিশ্বকাপের মঞ্চে আইসল্যান্ডের ‘ভাইকিং থান্ডার ক্ল্যাপ’ কিংবা কমলা জার্সিধারী ডাচ সমর্থকদের রাজপথ জুড়ে ‘লেফট-রাইট’ নাচ বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’। এই সেলিব্রেশনের নিয়মটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়—দলের সব ফুটবলার পা সামনে ছড়িয়ে মাটিতে সারিবদ্ধভাবে বসেন। গ্যালারি থেকে একজন ড্রামবাদক নির্দিষ্ট ছন্দে ড্রাম বাজাতে থাকেন। দু’বার ড্রাম বাজানোর ঠিক পরপরই ফুটবলার ও দর্শকরা সমস্বরে চিৎকার করে ওঠেন ‘রো’ (Row) বলে, এবং একই সাথে হাত ও শরীর পিছন দিকে টেনে নৌকা বাওয়ার ভঙ্গি করেন।


এই অভিনব সেলিব্রেশনের শেকড় লুকিয়ে রয়েছে নরওয়ের প্রাচীন ও বীরত্বপূর্ণ ‘ভাইকিং যুগে’। ইতিহাস বলছে, ৮০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই ভাইকিংরা বিশালাকার জাহাজ ও নৌকা নিয়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশ জয় করতে বের হতো। আজকের আধুনিক নরওয়ে গঠনে সেই প্রাচীন জলদস্যু ও যোদ্ধাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নিজের দেশের সেই ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই হালান্ডরা মাঠের বুকেই তৈরি করেছেন এই প্রতীকী জাহাজ। তবে ফুটবল মাঠে এর আগমন খুব বেশিদিনের নয়। মাত্র ৪ মাস আগে, ওলে ফ্রয়স্টাড নামের এক অতি-উৎসাহী সমর্থকের হাত ধরে গত মার্চ মাসে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচে প্রথম এই ‘ভাইকিং রো’ দেখা গিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে সেনেগালকে হারানোর পর এবং এবার আইভরি কোস্ট বধের পর ওডেগার্ডের নেতৃত্বে ফের এই মেগা শো দেখল বিশ্ব। আগামী ৬ জুলাই শেষ ১৬-র হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে। সাম্বার দেশকে হারিয়েও কি মাঠের বুকে ফের নৌকা বাইবেন হালান্ডরা? এখন সেটাই দেখার।

বিষয় : FiFAWorldCup2026 ERLINGHAALAND NORWAYFOOTBALL MARTINODEGAARD

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


বিশ্বকাপের মাঠে হঠাৎই নৌকা বাইতে শুরু করলেন হালান্ডরা! ফুটবল দুনিয়া কাঁপানো ‘ভাইকিং রো’-এর পিছনে রয়েছে কোন ভয়ঙ্কর ইতিহাস?

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার নকআউটের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে মহানাটকীয় জয়ের পর গ্যালারিজুড়ে যখন উল্লাস, তখনই মাঠের মাঝে অদ্ভুত এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বিশ্বফুটবল। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডরা ম্যাচ শেষ হতেই মাঠের ঘাসের ওপর লাইনে বসে হঠাৎ করেই একসঙ্গে নৌকা বাওয়ার অভিনয় করতে শুরু করলেন। গ্যালারি থেকে হাজার হাজার নরওয়েজিয়ান সমর্থকও ড্রামের তালে সমস্বরে গলা মিলিয়ে মেতে উঠলেন সেই উৎসবে। মুহূর্তের মধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে নরওয়ে দলের এই বিশেষ উদযাপন, যার অফিশিয়াল নাম ‘ভাইকিং রো’ (Viking Row)। কিন্তু ফুটবল মাঠের এই অদ্ভুত নৌকা বাওয়ার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোন প্রাচীন ইতিহাস?৯৬ মিনিটের রূপকথা!নেইমার ছাড়াই ' রাউন্ড অফ ১৬'-ব্রাজিল!বিশ্ব ফুটবলে সমর্থকদের দলবদ্ধ সেলিব্রেশন নতুন কিছু নয়। এর আগে ইউরো বা বিশ্বকাপের মঞ্চে আইসল্যান্ডের ‘ভাইকিং থান্ডার ক্ল্যাপ’ কিংবা কমলা জার্সিধারী ডাচ সমর্থকদের রাজপথ জুড়ে ‘লেফট-রাইট’ নাচ বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’। এই সেলিব্রেশনের নিয়মটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়—দলের সব ফুটবলার পা সামনে ছড়িয়ে মাটিতে সারিবদ্ধভাবে বসেন। গ্যালারি থেকে একজন ড্রামবাদক নির্দিষ্ট ছন্দে ড্রাম বাজাতে থাকেন। দু’বার ড্রাম বাজানোর ঠিক পরপরই ফুটবলার ও দর্শকরা সমস্বরে চিৎকার করে ওঠেন ‘রো’ (Row) বলে, এবং একই সাথে হাত ও শরীর পিছন দিকে টেনে নৌকা বাওয়ার ভঙ্গি করেন।এই অভিনব সেলিব্রেশনের শেকড় লুকিয়ে রয়েছে নরওয়ের প্রাচীন ও বীরত্বপূর্ণ ‘ভাইকিং যুগে’। ইতিহাস বলছে, ৮০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই ভাইকিংরা বিশালাকার জাহাজ ও নৌকা নিয়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশ জয় করতে বের হতো। আজকের আধুনিক নরওয়ে গঠনে সেই প্রাচীন জলদস্যু ও যোদ্ধাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নিজের দেশের সেই ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই হালান্ডরা মাঠের বুকেই তৈরি করেছেন এই প্রতীকী জাহাজ। তবে ফুটবল মাঠে এর আগমন খুব বেশিদিনের নয়। মাত্র ৪ মাস আগে, ওলে ফ্রয়স্টাড নামের এক অতি-উৎসাহী সমর্থকের হাত ধরে গত মার্চ মাসে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচে প্রথম এই ‘ভাইকিং রো’ দেখা গিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে সেনেগালকে হারানোর পর এবং এবার আইভরি কোস্ট বধের পর ওডেগার্ডের নেতৃত্বে ফের এই মেগা শো দেখল বিশ্ব। আগামী ৬ জুলাই শেষ ১৬-র হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে। সাম্বার দেশকে হারিয়েও কি মাঠের বুকে ফের নৌকা বাইবেন হালান্ডরা? এখন সেটাই দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার