কলকাতা: রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে রাজ্যের পুণ্যার্থী ও উৎসব কমিটিগুলির জন্য এক বিরাট উপহারের ঘোষণা করল নবান্ন। বাংলার ১০০ থেকে ১৫০ বছরের পুরনো প্রতিটি ঐতিহ্যশালী রথযাত্রা কমিটিকে এবার এককালীন ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। জেলায় জেলায় রথযাত্রা উৎসবকে আরও সাড়ম্বরে এবং সুচারুভাবে পালন করার লক্ষ্যেই নবান্নের এই মাস্টারস্ট্রোক। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে চিহ্নিতকরণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১৩ জুলাই এই অনুদানের চেক অনুমোদিত প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। এই বিশেষ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতে পারেন।
আসন্ন রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে (ডিএম) প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, রথযাত্রা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব হওয়ার কারণে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে ভিড় জমান। তাই উৎসব যাতে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য জেলা প্রশাসনকে সব রকম ব্যবস্থা নিতে হবে।
'ট্রেডমিলে বাজেট হয় না'— মমতাকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের
রথযাত্রার রুট এবং ভক্তদের জমায়েতের জায়গাগুলিতে বিশেষ 'সেবা শিবির' বা ফ্যাসিলিটেশন ক্যাম্প স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা উল্টোরথের দিনও চালু থাকবে। এই শিবিরগুলি পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলাকে আলাদাভাবে ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিটি শিবিরে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস প্যাকেট, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবীণ, মহিলা, শিশু ও বিশেষভাবে সক্ষম ভক্তদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।
উৎসবের দিনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল সচল রাখা, কড়া নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনকে পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, দমকল, পূর্ত দপ্তর, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং পরিবহণ দপ্তরের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিশেষ সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নজরে যদি এমন কোনো রথযাত্রা কমিটি থাকে যা ঐতিহাসিক গুরুত্ব, জনসমাগম বা উৎসবের বিশালতার কারণে আরও বেশি অনুদানের যোগ্য, তবে বিস্তারিত কারণ দর্শিয়ে সেই কমিটির জন্য অতিরিক্ত অনুদানের সুপারিশ নবান্নে পাঠানো যাবে। উৎসব শেষ হওয়ার পর সমস্ত জেলাকে বরাদ্দ অর্থের খরচের হিসেব ও কর্মসূচির ছবি সহ সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট দ্রুত তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে। সরকারের এই অভাবনীয় উদ্যোগে এবার বাংলার রথযাত্রার রঙ আরও জমকালো হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন