বারুইপুর: বদলের বাংলায় নারী নির্যাতন ও খুনের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরে নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দেওয়ার পরপরই এই মামলায় এবার যুক্ত হলো গণধর্ষণের মতো মারাত্মক ধারা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত এগোনোর সাথে সাথে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার খুনের ধারার পাশাপাশি গণধর্ষণের ৭০ (২) নম্বর ধারাও এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে সোমবারই প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার নামে দুই অভিযুক্তকে বারুইপুর আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে সরকারি আইনজীবী ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানালে, মামলার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিচার করে আদালত তা মঞ্জুর করে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এদিন আদালতে ধৃতদের পক্ষে সওয়াল করার জন্য কোনো আইনজীবীই এগিয়ে আসেননি।
এদিকে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চাঁইকেও সোমবার দুপুরে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আনন্দ সর্দার নামের ওই ধৃত যুবকের কাছ থেকেই এই অপরাধের ব্লু-প্রিন্ট এবং ঘটনার রাতে আর কারা কারা উপস্থিত ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, মৃত নাবালিকার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসতেই শিউরে উঠছেন দুঁদে পুলিশকর্তারাও। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, নাবালিকাকে নির্মমভাবে যৌন নির্যাতনের পর কোনো ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়েছিল অথবা কোথাও মাথা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তার মাথায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে রোমহর্ষক বিষয় হলো, পাশবিক অত্যাচার চালিয়ে যখন তাকে পুকুরের জলে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল, তখনও মেয়েটির শরীরে প্রাণ ছিল, অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত জলেই ডুবে মৃত্যু হয়েছে তার। নির্যাতিতার যৌনাঙ্গেও গভীর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
উল্লেখ্য, রবিবার সকালে ধপধপি এলাকার একটি পুকুর থেকে নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার হতেই রণক্ষেত্রের রূপ নেয় বারুইপুর। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ রেল অবরোধও চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং নির্যাতিতার বাবার সাথে ফোনে কথা বলে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন এবং তাঁরই নির্দেশে বিকেলের মধ্যে ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, এই জঘন্যতম অপরাধের সাথে জড়িত একজনও যাতে ছাড় না পায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়, তা নিশ্চিত করাই এখন রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য।

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন