Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Nepal Disaster: হড়পা বানের ২১ দিন পর ভয়াবহ দৃশ্য! নেপালের সুড়ঙ্গ খুলতেই বেরিয়ে এল সারি সারি দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Nepal Disaster: হড়পা বানের ২১ দিন পর ভয়াবহ দৃশ্য! নেপালের সুড়ঙ্গ খুলতেই বেরিয়ে এল সারি সারি দেহ
নেপালের হাইড্রো প্রজেক্টের টানেল থেকে উদ্ধার ১০টি মৃতদেহ। ছবি-সংগৃহীত

কাঠমান্ডু: ভয়াবহ হড়পা বানের ঘোর বিপর্যয় কাটতে না কাটতেই এবার নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্ধকার সুরঙ্গ থেকে নেমে এলো নিথর নীরবতা। গত ২৬ অগস্টের সেই প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়ের দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর রাসুয়া জেলার দু’টি পৃথক হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টের টানেল থেকে উদ্ধার করা হলো ১০ জনের গলিত মৃতদেহ। ভয়াবহ কাদামাটি ও পলি জমে থাকা ওই অন্ধকার টানেলে আটকে থাকা মানুষদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না এতদিন। বুধবার ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং নেপালি উদ্ধারকারীদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই মর্মান্তিক দেহগুলি বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।

নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে খবর, উজান থেকে নেমে আসা কাদাস্রোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির গভীরতম অংশ পুরোপুরি বুজে গিয়েছিল। চিলিমে হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টের টানেল থেকে পাঁচ জন এবং ত্রিশূলী-১ প্রজেক্টের অডিট-৩ টানেল থেকে আরও পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। চিলিমে টানেলের শেষ প্রান্তে এতটাই কাদা ও ভারি ধ্বংসস্তূপ জমাদণ্ড বেঁধেছিল যে আধুনিক কোনো ভারী যন্ত্র সেখানে পৌঁছে কাজ করতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনী ও নেপালের উদ্ধারকারী দল নিজেদের জীবন বাজী রেখে খালি হাতে হাত দিয়ে বেলচা-কোদাল দিয়ে কাদা সরিয়ে ওই পাঁচ জনের দেহ উদ্ধার করেন। ওই প্রজেক্টের প্রধান প্রকৌশলী শ্রীরাম নুপানে জানিয়েছেন, এখনও সুরঙ্গের গভীরে উদ্ধারকাজ অব্যাহত এবং তাঁরা কোনো অলৌকিক ভালো খবরের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন। অন্যদিকে ত্রিশূলী-১ প্রজেক্টের উদ্ধারকাজ চালায় নেপাল সেনাবাহিনী।

এদিকে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুরো নেপাল ও তিব্বতের পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলে মৃত্যুর মিছিল থামার নাম নেই। নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মুখপাত্র শান্তি মাহাট জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ হড়পা বানে শুধু নেপাতেই মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪০৩ জনে। এখনও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে ৬,১৫০ জন মানুষ, যার মধ্যে অন্তত ১৮৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে পাহাড়ি সীমানার ওপারে তিব্বত অঞ্চলেও এই বিপর্যয়ের প্রকোপে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ জন এবং নিখোঁজ প্রায় ৫১৯ জন।

নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে পুরো পাহাড়ি অববাহিকায় মোট মৃতের সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা সাম্প্রতিককালের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক ট্র্যাজেডি। দুর্গম পাহাড় ও কাদা-পাথরে ঢাকা জঙ্গলময় এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো প্রতিদিন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। তবে ভারতীয় সেনা ও স্থানীয় উদ্ধারকারীদের অবিরাম প্রচেষ্টায় টানেলে আটকে থাকা বাকি মানুষদের উদ্ধারে এখনও দিনরাত এক করে অভিযান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


বিষয় : BreakingNews HiddenStoriesNews NaturalCalamity FlashFloods NepalFlood NepalDisaster ResueOperation IndianArmy ChilimeHydro TrishuliHydro KashmirToNepal BreakingNews SearchAndRescue

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Nepal Disaster: হড়পা বানের ২১ দিন পর ভয়াবহ দৃশ্য! নেপালের সুড়ঙ্গ খুলতেই বেরিয়ে এল সারি সারি দেহ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কাঠমান্ডু: ভয়াবহ হড়পা বানের ঘোর বিপর্যয় কাটতে না কাটতেই এবার নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্ধকার সুরঙ্গ থেকে নেমে এলো নিথর নীরবতা। গত ২৬ অগস্টের সেই প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়ের দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর রাসুয়া জেলার দু’টি পৃথক হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টের টানেল থেকে উদ্ধার করা হলো ১০ জনের গলিত মৃতদেহ। ভয়াবহ কাদামাটি ও পলি জমে থাকা ওই অন্ধকার টানেলে আটকে থাকা মানুষদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না এতদিন। বুধবার ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং নেপালি উদ্ধারকারীদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই মর্মান্তিক দেহগুলি বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে খবর, উজান থেকে নেমে আসা কাদাস্রোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির গভীরতম অংশ পুরোপুরি বুজে গিয়েছিল। চিলিমে হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টের টানেল থেকে পাঁচ জন এবং ত্রিশূলী-১ প্রজেক্টের অডিট-৩ টানেল থেকে আরও পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। চিলিমে টানেলের শেষ প্রান্তে এতটাই কাদা ও ভারি ধ্বংসস্তূপ জমাদণ্ড বেঁধেছিল যে আধুনিক কোনো ভারী যন্ত্র সেখানে পৌঁছে কাজ করতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনী ও নেপালের উদ্ধারকারী দল নিজেদের জীবন বাজী রেখে খালি হাতে হাত দিয়ে বেলচা-কোদাল দিয়ে কাদা সরিয়ে ওই পাঁচ জনের দেহ উদ্ধার করেন। ওই প্রজেক্টের প্রধান প্রকৌশলী শ্রীরাম নুপানে জানিয়েছেন, এখনও সুরঙ্গের গভীরে উদ্ধারকাজ অব্যাহত এবং তাঁরা কোনো অলৌকিক ভালো খবরের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন। অন্যদিকে ত্রিশূলী-১ প্রজেক্টের উদ্ধারকাজ চালায় নেপাল সেনাবাহিনী।এদিকে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুরো নেপাল ও তিব্বতের পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলে মৃত্যুর মিছিল থামার নাম নেই। নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মুখপাত্র শান্তি মাহাট জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ হড়পা বানে শুধু নেপাতেই মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪০৩ জনে। এখনও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে ৬,১৫০ জন মানুষ, যার মধ্যে অন্তত ১৮৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে পাহাড়ি সীমানার ওপারে তিব্বত অঞ্চলেও এই বিপর্যয়ের প্রকোপে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ জন এবং নিখোঁজ প্রায় ৫১৯ জন।নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে পুরো পাহাড়ি অববাহিকায় মোট মৃতের সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা সাম্প্রতিককালের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক ট্র্যাজেডি। দুর্গম পাহাড় ও কাদা-পাথরে ঢাকা জঙ্গলময় এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো প্রতিদিন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। তবে ভারতীয় সেনা ও স্থানীয় উদ্ধারকারীদের অবিরাম প্রচেষ্টায় টানেলে আটকে থাকা বাকি মানুষদের উদ্ধারে এখনও দিনরাত এক করে অভিযান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত