শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে তুলে ধরতে বিশ্ব পর্যটন দিবসে এক অভিনব উদযাপনের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা শিলিগুড়ি। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দফতর ও ‘ফেডারেশন অফ বেঙ্গল হোটেলিয়ার্স’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হল এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
তবে কেবল উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই দিনটি; ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি পর্যটন ক্ষেত্রের অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার জোরাল অঙ্গীকার শোনা গেল রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের গলায়।
এ দিন সকালে শিলিগুড়ি কলেজ মাঠ থেকে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এই বর্ণময় কর্মসূচির সূচনা হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেয় স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, সাংস্কৃতিক ও নৃত্যদল, প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিরা।
প্রায় ৪২টি দল ও সংগঠনের অংশগ্রহণে মেগা এই শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ ছিল পুলিশ ব্যান্ড, টোটো সাজানো মিছিল, ঘোড়ার গাড়ি, পালকি, ঢাকি এবং রঙিন লায়ন ডান্স। বিশেষ নজর কাড়ে বিশেষভাবে সক্ষমদের সক্রিয় অংশগ্রহণও। আগামী দিনে একটি ম্যারাথন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দুই দিনের এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।
তবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পাশাপাশি এ দিনের অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাজ্যের পর্যটন নীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বিগত ১৫ বছরের প্রশাসনিক খামতি নিয়ে সরব হন।
তিনি দাবি করেন, “গত ১৫ বছরে পর্যটন দফতর মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ টাকাও উন্নয়নের কাজে লাগাতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ২০ টাকাও খরচ করা সম্ভব হয়নি।” একই সঙ্গে বরাদ্দ অর্থের খরচে দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ তুলে মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, দশকের পর দশক ধরে উত্তরবঙ্গের পর্যটন সম্ভাবনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা রূপায়ণে সদিচ্ছার অভাব ছিল।
অতীতের এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে রাজ্য পর্যটনকে নতুন দিশা দেখানোর একাধিক ভবিষ্যৎ রূপরেখা পেশ করেন মন্ত্রী। পাহাড়, ডুয়ার্স, চা-বাগান, নদী ও লোকসংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটনকেন্দ্র তৈরি, স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হচ্ছে।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের আন্তর্জাতিক ভাবনা, 'ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টু রিডিজাইন ট্যুরিজম' (Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism)। এই মূল ভাবনাকে সম্বল করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে রাজ্যের পর্যটন পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য, উন্নত ও নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জী, ট্রাফিক ডিএসপি কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অতীতের ত্রুটি মুছে প্রযুক্তি আর ঐতিহ্যের সমন্বয়ে 'এক্সপ্লোর ওয়েস্ট বেঙ্গল' (Explore West Bengal)-কে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেওয়াই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন