Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Bengaluru Man: গাড়িতে মিলল ৯ টুকরো দেহ! দুবাইয়ে খুন বেঙ্গালুরুর যুবক, নিথোঁজ স্ত্রী ও সন্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Bengaluru Man: গাড়িতে মিলল ৯ টুকরো দেহ! দুবাইয়ে খুন বেঙ্গালুরুর যুবক, নিথোঁজ স্ত্রী ও সন্তান
শারজায় উদ্ধার প্রকাশের ৯ টুকরো দেহ। ছবি : এক্স

আবুধাবি ও বেঙ্গালুরু: এক ঝলকে মনে হতে পারে কোনও রোমাঞ্চকর ক্রাইম থ্রিলারের চিত্রনাট্য। কিন্তু বাস্তব, অনেক সময় কাল্পনিক কাহিনিকেও ছাপিয়ে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) শারজায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনা আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল। বিমানবন্দরে গত ১৪ বছর ধরে কর্মরত কর্নাটকের উদিপি জেলার বাসিন্দা অলউইন প্রকাশ কুন্ডার (৪৪) নামে এক ভারতীয় যুবককে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। 

শুধু খুনই নয়, অপরাধ ঢাকতে তাঁর দেহ কেটে নয় টুকরো করে দুটি ব্যাগে ভরে একটি পরিত্যক্ত গাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে দাবি নিহতের পরিবারের। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ নিহতের শিক্ষিকা স্ত্রী এবং দশম শ্রেণির পড়ুয়া ছেলেও। প্রায় দুই মাস পর প্রকাশ্যে আসা এই হাড়হিম করা ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উদিপির কুন্দাপুরের বাসিন্দা অলউইন শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত ডিসেম্বরে শেষবার দেশে এসেছিলেন। শারজাতেই স্ত্রী টিনা এবং ছেলেকে নিয়ে একটি সংস্থাসূত্রে পাওয়া ফ্ল্যাটে থাকতেন অলউইন। 

টিনা স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। গত ২০ জুলাই অলউইনকে ফোন করেন তাঁর ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্ডার। কিন্তু ফোন ধরেননি অলউইন। পরিবর্তে একটি বার্তা আসে, যেখানে লেখা ছিল ‘আমি ভাল আছি’। অনিলের দাবি, অলউইন সাধারণত টেক্সট মেসেজ পাঠাতেন না, অভ্যস্ত ছিলেন ভয়েস মেসেজে। ফলে বিষয়টি নিয়ে খটকা তৈরি হয় পরিবারের মনে।

এক সপ্তাহ পর ফের যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অনিল শারজায় থাকা অলউইনের এক সহপাঠী মনোহরকে পুরো বিষয়টি জানান। মনোহর অলউইনের ফ্ল্যাটে গেলে আবাসনের নিরাপত্তাকর্মী জানান, প্রকাশ পরিবার-সহ ভারতে ফিরে গিয়েছেন। 

এমনকি অলউইনের কর্মস্থলের এইচআর বিভাগ থেকেও প্রাথমিক তদন্তে একই কথা জানানো হয়। সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায় অনিল পুনরায় ওই সংস্থাকে জানান, অলউইন দেশে ফেরেননি। এরপর পাসপোর্ট ও অভিবাসন রেকর্ড পরীক্ষা করে জানা যায়, তিনি শারজাতেই অবস্থান করছেন।

তড়িঘড়ি শারজা পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ওমানগামী একটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পরিত্যক্ত গাড়ির ভিতর থেকে দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ উদ্ধার করে। ব্যাগ খুলে দেখা যায়, অলউইনের দেহ নয় টুকরো করে কাটা অবস্থায় রয়েছে। গত সোমবার এই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই উদিপির জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয় পরিবার।

নিহতের ভাই অনিলের বক্তব্য, "কারও বুকে ছুরি মেরে শরীর নয় টুকরো করা পেশাদার অপরাধী ছাড়া সম্ভব নয়।" সিসিটিভি ফুটেজে দু’জন পুরুষ এবং এক মহিলাকে অলউইনের ফ্ল্যাট থেকে বের হতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি পরিবারের। ফলে অলউইনের স্ত্রী টিনা এবং ছেলে কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁরা কি ভারতে এসেছেন, নাকি শারজাতেই লুকিয়ে রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।

শারজা পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও সরকারিভাবে খুনের কারণ বা মূল অভিযুক্ত সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে অলউইনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আকুল আবেদন জানিয়েছে পরিবার। ঘটনার নেপথ্যে কি পারিবারিক বিবাদ, নাকি অন্য কোনও বড় ষড়যন্ত্র, সেই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

বিষয় : HiddenStoriesNews #HiddenStoriesNews #SharjahCrimeNews #UdupiNews #MysteryMurder #AnandabazarStyle #KarnatakaNews #BreakingNews #CrimeJournalism #ViralNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Bengaluru Man: গাড়িতে মিলল ৯ টুকরো দেহ! দুবাইয়ে খুন বেঙ্গালুরুর যুবক, নিথোঁজ স্ত্রী ও সন্তান

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
আবুধাবি ও বেঙ্গালুরু: এক ঝলকে মনে হতে পারে কোনও রোমাঞ্চকর ক্রাইম থ্রিলারের চিত্রনাট্য। কিন্তু বাস্তব, অনেক সময় কাল্পনিক কাহিনিকেও ছাপিয়ে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) শারজায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনা আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল। বিমানবন্দরে গত ১৪ বছর ধরে কর্মরত কর্নাটকের উদিপি জেলার বাসিন্দা অলউইন প্রকাশ কুন্ডার (৪৪) নামে এক ভারতীয় যুবককে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। শুধু খুনই নয়, অপরাধ ঢাকতে তাঁর দেহ কেটে নয় টুকরো করে দুটি ব্যাগে ভরে একটি পরিত্যক্ত গাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে দাবি নিহতের পরিবারের। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ নিহতের শিক্ষিকা স্ত্রী এবং দশম শ্রেণির পড়ুয়া ছেলেও। প্রায় দুই মাস পর প্রকাশ্যে আসা এই হাড়হিম করা ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উদিপির কুন্দাপুরের বাসিন্দা অলউইন শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত ডিসেম্বরে শেষবার দেশে এসেছিলেন। শারজাতেই স্ত্রী টিনা এবং ছেলেকে নিয়ে একটি সংস্থাসূত্রে পাওয়া ফ্ল্যাটে থাকতেন অলউইন। টিনা স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। গত ২০ জুলাই অলউইনকে ফোন করেন তাঁর ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্ডার। কিন্তু ফোন ধরেননি অলউইন। পরিবর্তে একটি বার্তা আসে, যেখানে লেখা ছিল ‘আমি ভাল আছি’। অনিলের দাবি, অলউইন সাধারণত টেক্সট মেসেজ পাঠাতেন না, অভ্যস্ত ছিলেন ভয়েস মেসেজে। ফলে বিষয়টি নিয়ে খটকা তৈরি হয় পরিবারের মনে।এক সপ্তাহ পর ফের যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অনিল শারজায় থাকা অলউইনের এক সহপাঠী মনোহরকে পুরো বিষয়টি জানান। মনোহর অলউইনের ফ্ল্যাটে গেলে আবাসনের নিরাপত্তাকর্মী জানান, প্রকাশ পরিবার-সহ ভারতে ফিরে গিয়েছেন। এমনকি অলউইনের কর্মস্থলের এইচআর বিভাগ থেকেও প্রাথমিক তদন্তে একই কথা জানানো হয়। সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায় অনিল পুনরায় ওই সংস্থাকে জানান, অলউইন দেশে ফেরেননি। এরপর পাসপোর্ট ও অভিবাসন রেকর্ড পরীক্ষা করে জানা যায়, তিনি শারজাতেই অবস্থান করছেন।তড়িঘড়ি শারজা পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ওমানগামী একটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পরিত্যক্ত গাড়ির ভিতর থেকে দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ উদ্ধার করে। ব্যাগ খুলে দেখা যায়, অলউইনের দেহ নয় টুকরো করে কাটা অবস্থায় রয়েছে। গত সোমবার এই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই উদিপির জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয় পরিবার।নিহতের ভাই অনিলের বক্তব্য, "কারও বুকে ছুরি মেরে শরীর নয় টুকরো করা পেশাদার অপরাধী ছাড়া সম্ভব নয়।" সিসিটিভি ফুটেজে দু’জন পুরুষ এবং এক মহিলাকে অলউইনের ফ্ল্যাট থেকে বের হতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি পরিবারের। ফলে অলউইনের স্ত্রী টিনা এবং ছেলে কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁরা কি ভারতে এসেছেন, নাকি শারজাতেই লুকিয়ে রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।শারজা পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও সরকারিভাবে খুনের কারণ বা মূল অভিযুক্ত সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে অলউইনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আকুল আবেদন জানিয়েছে পরিবার। ঘটনার নেপথ্যে কি পারিবারিক বিবাদ, নাকি অন্য কোনও বড় ষড়যন্ত্র, সেই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত