পুজো মানেই নতুন শাড়ি। আর মহিলাদের পুজোর শাড়ির তালিকায় তসর থাকবেই। সারা বছর শাড়ি কেনা হলেও পুজোর সময় নতুন ধরনের শাড়ি কেনা চাই-ই চাই। এমন কিছু পরতে ইচ্ছে করে, যা দেখতে আধুনিক, অথচ তার মধ্যে মিশে থাকে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। সেই জায়গাতেই তসরের কদর। কিন্তু ভাগলপুরি থেকে কোসা, বিদর্ভ থেকে ঘিচা সব তসর এক নয়। পুজোর আগে জেনে নিন কোন তসরের কী বিশেষত্ব, দাম কত এবং কোনটি আপনার পছন্দের হতে পারে।
ভাগলপুরের গাছি তসর
বিহারের ভাগলপুরকে বলা হয় ‘সিল্ক সিটি’। এখানকার বুনো রেশমপোকার কোকুন থেকে গাছি তসর তৈরি হয়। ভাগলপুরি গাছি তসরের বুনন তুলনামূলক মসৃণ হয়। অন্য অনেক তসরের মতো অতটা খসখসে অনুভূতি এখানে পাওয়া যায় না। কাপড়ের স্বাভাবিক সোনালি আভাও বেশ স্পষ্ট। ভাগলপুরে মুগা-তসর ও ঘিচা-তসরও তৈরি হয়। তবে গাছি তসরের জনপ্রিয়তা আলাদা।
দাম: সাধারণ শাড়ির দাম প্রায় ২ হাজার টাকা থেকে শুরু হতে পারে। হাতের কাজ, নকশা ও জরির পরিমাণ অনুযায়ী তা ১০-১২ হাজার বা তারও বেশি হতে পারে।
মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ তসর
তসরের দুনিয়ায় খুব একটা পরিচিত নয় বিদর্ভ তসর। মহারাষ্ট্রের ভান্ডারা জেলা-সহ বিদর্ভ অঞ্চলে এই শাড়ি তৈরি হয়। এর মধ্যে ‘কারভাটি কিনার’ শাড়ির বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এই শাড়ির পাড়ে করাতের দাঁতের মতো জ়িগজ়্যাগ নকশা দেখা যায়। তসরের স্বাভাবিক রুক্ষ টেক্সচারও এখানে বেশ স্পষ্ট। তাই এবার পুজোয় যারা একটু অন্যরকম কিছু খুঁজছেন, তাঁদের কাছে বিদর্ভ তসর আকর্ষণীয় হতে পারে।
দাম: হাতের কাজ ও বুননের উপর নির্ভর করে সাধারণত প্রায় ১০ থেকে ১৯ হাজার টাকার মধ্যে দাম দেখা যায়।
ছত্তীসগঢ়ের কোসা সিল্ক
ছত্তীসগঢ়ে তসর সিল্ক ‘কোসা’ নামে পরিচিত। কোসা সিল্ক সাধারণ তসরের তুলনায় কিছুটা ভারী ও শক্ত ধরনের হতে পারে। এর স্বাভাবিক সোনালি আভাও বেশ নজরকাড়া। আসল কোসা চেনার ক্ষেত্রে পাড় ও আঁচলের বুননও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শাড়িতে এগুলি আলাদা করে ছাপা না হয়ে বাড়তি সুতো দিয়ে বোনা হয়। কোসা সিল্ক জিআই স্বীকৃতিও পেয়েছে।
দাম: প্রায় সাড়ে ৪-৫ হাজার টাকা থেকে শুরু। নকশা, বুনন ও জরির কাজের মান অনুযায়ী দাম ৫০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের তসর
বাংলার তসরের সঙ্গে বাঙালির আবেগের সম্পর্কটা অনেকটাই আলাদা। বিষ্ণুপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদা-সহ বিভিন্ন জায়গায় তসর বোনা হয়। বাংলার তসরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার হালকা ও পাতলা বুনন, যা বেশ আরামদায়ক। নরম সোনালি আভা ও সূক্ষ্ম বুনন শাড়িটিতে এনে দেয় সাবেকি সৌন্দর্য। কাঁথা স্টিচ, বালুচরী মোটিফ, রেশমসুতোয় বুনন কিংবা ব্লক প্রিন্ট বিভিন্ন নকশায় তসর শাড়ির বৈচিত্র্য বাড়ে।
দাম: সাধারণত প্রায় আড়াই-তিন হাজার টাকা থেকে শুরু হতে পারে। হাতের কাজ, কাঁথা স্টিচ, এমব্রয়ডারি, ব্লক প্রিন্ট বা বিশেষ বুনন থাকলে দাম অনেকটাই বাড়ে।
ঘিচা তসর
ঘিচা তসরও বেশ আলাদা ধরনের। রেশমের সুতো তৈরির সময় কোকুন থেকে পাওয়া ছোট ছোট আঁশ বা অবশিষ্ট অংশ কাজে লাগিয়ে ঘিচার সুতো তৈরি করা হয়। এই শাড়ি তুলনামূলক বেশি রুক্ষ ও অমসৃণ। মসৃণ তসরের বদলে ঘিচার সৌন্দর্য তার ‘রাফ অ্যান্ড রাস্টিক’ চেহারায়। খুব বেশি জাঁকজমক না চেয়ে সাদামাটা অথচ আলাদা ধরনের শাড়ি পরতে চাইলে ঘিচা পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন।
দাম: প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা থেকেই ঘিচা তসর পাওয়া যেতে পারে।
বিষয় : Durga Puja 2026 Saree

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন