কলকাতা: সামনেই শারদোৎসব, অথচ তার আগেই রাজ্যে জাঁকিয়ে বসেছে নানা মারাত্মক সংক্রামক রোগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। আর্দ্র আবহাওয়া এবং ঘন ঘন আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ঘরে ঘরে এখন তীব্র জ্বর, কাঁপুনি, সর্দি-কাশি আর পেটের নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সাধারণ ভাইরাল ফিভার মনে করে অনেকে ভুল করলেও, পরীক্ষা করাতেই ধরা পড়ছে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড কিংবা সোয়াইন ফ্লুর মতো কঠিন ব্যাধি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং জমা জল ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য একেবারেই অনুকূল। এ বছর ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে পাঁচ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে, আর তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার মতো মশা বাহিত রোগ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, কেবল সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়াই নয়, ডেঙ্গি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ধরণ বা চরিত্র বদলে যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেঙ্গির প্রভাবে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হওয়া বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে তীব্র ম্যালেরিয়া মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, করোনাভাইরাসের চেয়েও বেশি দ্রুত গতিতে এখন ভোল বদলাচ্ছে সোয়াইন ফ্লু ও অ্যাডিনোভাইরাসের মতো ভাইরাসগুলো। জিনগত মিউটেশনের কারণে নতুন প্রজাতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ওষুধ অনেক ক্ষেত্রেই কাজ করছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মশাবাহিত রোগের তাণ্ডবের মাঝেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দূষিত জলবাহিত সংক্রামক রোগও। একটানা বৃষ্টিতে ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের লাইনে ময়লা জল মিশে গিয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে 'হেপাটাইটিস এ' ও 'হেপাটাইটিস ই'। এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মানুষের লিভার। রাস্তার ধারের কাটা ফল, খোলা খাবার বা অস্বাস্থ্যকর শরবত পান করার মাধ্যমেও ব্যাকটেরিয়া সরাসরি শরীরে প্রবেশ করছে।
উৎসবের মরসুমে এই রোগের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে সতর্কতাই একমাত্র চাবিকাঠি। বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। ভিড়ের মধ্যে ঠাকুর দেখতে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা, বিশেষ করে যাঁরা শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জিতে ভোগেন। বাইরে বেরোনোর সময় নিজের পানীয় জল সঙ্গে রাখা এবং খোলা খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা এবং তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন