নয়া দিল্লি: রাজনীতি হোক বা শিল্পকলা—বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না গান্ধী পরিবারের। এ বার খোদ কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢ়রার পুত্র রায়হান রাজীব বঢ়রার একটি চিত্রপ্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গেল রাজধানী দিল্লিতে। দিল্লির ঐতিহ্যবাহী বিকানের হাউসে রায়হানের একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আয়োজক ও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে যে ফতোয়া জারি করা হয়, তাতে রীতিমতো ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। প্রদর্শনীতে প্রদর্শনের জন্য বাছাই করা মোট ১০৫টি ছবির মধ্যে প্রায় ৭৪টি ছবিই শেষ মুহূর্তে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়। আর এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্প জগতের স্বাধীনতা ও বাক্স্বাধীনতার ওপর সরাসরি সেন্সরশিপের অভিযোগ তুলেছে রাজনৈতিক মহল।
‘নো আইডিয়া ইজ় ফাইনাল’ বা ‘কোনও ধারণাই চূড়ান্ত নয়’—এই শিরোনামে বুধবার দিল্লির বিখ্যাত বিকানের হাউসে ছিল ২৬ বছর বয়সি পেশাদার চিত্রশিল্পী ও চিত্রগ্রাহক রায়হানের বহুল প্রতীক্ষিত প্রদর্শনী। সমস্ত প্রস্তুতি যখন একেবারে তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই প্রশাসনের কড়া নজরদারির খাঁড়া নেমে আসে। রায়হানের অভিযোগ, প্রদর্শনী শুরু হওয়ার ঠিক তিন ঘণ্টা আগে বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ তাঁকে লিখিত নির্দেশিকা ধরানো হয়। সেখানে বলা হয়, ১০৫টি ছবির মধ্যে ৭৪টি ছবিই প্রদর্শনী থেকে বাদ দিতে হবে। কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষের সাফাই ছিল, গত ছ’মাস ধরে দিল্লিতে ঘটে চলা ছাত্র-যুব বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের এই ছবিগুলি বর্তমান সময় এবং পারিপার্শ্বিক প্রসঙ্গের নিরিখে একেবারেই ‘যথাযথ নয়’। যেহেতু রাজধানী এখনও নিরাপত্তার চাদরে মোড়া, তাই রাজনৈতিক বা প্রতিবাদের কোনো দৃশ্য জনসমক্ষে আনা যাবে না বলে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এই হঠাৎ সেন্সরশিপের মুখে পড়ে চরম বিপাকে পড়েন তরুণ শিল্পী ও তাঁর টিম। উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে ওই ৭৪টি ছবি খুলে নেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ছবির বদলে ফাঁকা ফ্রেমগুলো দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখলেও তাতে আপত্তি জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে সেই শূন্য ফ্রেমগুলোও নামিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন খোদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ক্ষুব্ধ প্রিয়াঙ্কার মন্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত অদ্ভুত এবং বিকারগ্রস্ত। গোটা দেশের যুব সমাজের কণ্ঠরোধ করার জন্য এটি এক সুগভীর চক্রান্ত। আজ তাঁর ছেলের সঙ্গে যা ঘটল, কাল ঠিক একই পরিণতি অন্য কোনো স্বাধীন শিল্পীর ক্ষেত্রেও যে ঘটতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। অন্যদিকে, রায়হানের সাফ কথা, তিনি কেবল মানুষের জমায়েত ও প্রতিবাদের মুহূর্তগুলোকে একজন শিল্পীর নিরপেক্ষ চোখ দিয়ে ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টা করেছেন। শিল্পের গায়ে এ হেন বাধানিষেধ চাপিয়ে কণ্ঠরোধ করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন