নয়াদিল্লি: আপনি হয়তো পরম নিষ্ঠায় বিশুদ্ধ নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন, কিন্তু রোজ সকালে যে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজছেন বা স্নানের সময় যে সাবান কিংবা শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন—তাতে আমিষ উপাদানের মিশ্রণ নেই তো? এই আশঙ্কার অবসান ঘটাতে এবার প্রসাধন ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক নির্দেশিকা নিয়ে এল কেন্দ্র। এখন থেকে খাওয়ার পণ্যের মতোই সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, ক্রিম কিংবা ফেসওয়াশের মতো সমস্ত প্রসাধন সামগ্রীর মোড়কেও স্পষ্ট করে লিখে দিতে হবে—সংশ্লিষ্ট পণ্যটি নিরামিষ নাকি আমিষ উপাদান দিয়ে তৈরি। উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের জারি করা এই নয়া নিয়মে প্রসাধন বাজারের চেনা ছবিটাই বদলে যেতে চলেছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস, ২০১১’ আইনে বড়সড় সংশোধন এনেছে। সংশোধিত এই নতুন বিধিতে সমস্ত উৎপাদক ও বাণিজ্যিক সংস্থাকে প্রসাধন পণ্যের উপাদানের চরিত্র মোড়কের ওপর বাধ্যতামূলকভাবে ফুটিয়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যের ক্ষেত্রে যে নিয়ম চালু রয়েছে, ঠিক সেই একই আদলে নিরামিষ পণ্যের প্যাকেটের গায়ে থাকবে একটি স্পষ্ট সবুজ বৃত্তাকার বিন্দু। অন্যদিকে, যদি পণ্যটি তৈরিতে কোনও ধরনের প্রাণিজ চর্বি বা আমিষ উপাদান ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে তার প্যাকেটে স্পষ্ট লাল বা গাঢ় বাদামী রঙের চিহ্ন ব্যবহার করা বাধ্য করা হয়েছে। প্রসাধনীর গায়ে চিহ্নটি এমনভাবে দৃশ্যমান জায়গায় ছাপা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ ক্রেতার চোখে তা সহজেই ধরা পড়ে।
উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই সংশোধিত আইন গত সোমবার থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়ে গিয়েছে। এত দিন পর্যন্ত প্রসাধন সামগ্রীতে লুকিয়ে থাকা নানা আমিষ বা প্রাণিজ উপাদানের বিভ্রান্তি থেকে এবার চিরতরে মুক্তি পাবেন সচেতন নিরামিষভোজীরা। বাজারে কেনাকাটার সময় মোড়কের রং দেখেই এক লহমায় পরখ করে নেওয়া সম্ভব হবে নিজের পছন্দের পণ্যটিকে। সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তকে উপভোক্তা অধিকারের ক্ষেত্রে এক বিশাল বড় জয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন