Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Ilish Crisis: পদ্মায় আর মিলছে না রুপোলি শস্য! বাংলাদেশে ইলিশের চরম হাহাকার, বাংলাদেশ ছেড়ে কি গুজরাটে পালাচ্ছে পদ্মার ইলিশ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
Ilish Crisis: পদ্মায় আর মিলছে না রুপোলি শস্য! বাংলাদেশে ইলিশের চরম হাহাকার, বাংলাদেশ ছেড়ে কি গুজরাটে পালাচ্ছে পদ্মার ইলিশ?

ঢাকা: একসময় পদ্মায় জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ত রুপোলি ইলিশ, যার স্বাদে-গন্ধে মাতোয়ারা হতো পারাপারের দুই বাংলাই। কিন্তু সেই সোনালী দিন এখন অতীত। বাংলাদেশে ক্রমশই উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই মাছের উৎপাদন। গত পাঁচ বছরে উৎপাদনের গ্রাফ একনাগাড়ে নিম্নমুখী হওয়ার পাশাপাশি ইলিশের ডিম প্রজনন ও ছোট খোকা ইলিশের বেঁচে থাকার হারও আশঙ্কাজনকভাবে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। যার জেরে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে ইলিশের চরম হাহাকার এবং স্বাভাবিকভাবেই বাজারে ইলিশের দাম আকাশ ছুঁয়েছে।

সরকারি ও মৎস্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে বাংলাদেশে যেখানে ইলিশের মোট উৎপাদন ছিল ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন, ২০২৩-২৪ বর্ষে তা একধাক্কায় কমে দাঁড়ায় ৫ লক্ষ ২৯ হাজার টনে। আর ২০২৪-২৫ সালে সেই উৎপাদন আরও হ্রাস পেয়ে মাত্র ৫ লক্ষ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। ইলিশের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি চাঁদপুরেও পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ; সেখানে উৎপাদন ৩৩ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন থেকে কমে ৩২ হাজার ৩০৪ মেট্রিক টনে ঠেকেছে। ২০২২ সালে যেখানে ৮ লক্ষ ৫ হাজার কেজির বেশি ডিম থেকে প্রায় ৪০ হাজার ২৭৬ কোটি খোকা ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল, ২০২৫-এ এসে সেই ডিম ও খোকা ইলিশের সংখ্যা হাজার হাজার কোটি কমে গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীগুলোর গভীরতা হ্রাস পাওয়া এবং তলদেশে পলি-বালি জমে অগভীর চর তৈরি হওয়াই ইলিশ উধাও হওয়ার মূল কারণ, কারণ ইলিশ মূলত গভীর জলের মাছ। তাছাড়া অতিরিক্ত নদীদূষণ, চট্টগ্রাম ও সাগরে ক্ষতিকর ট্রলি বা টং জালের অবৈধ ব্যবহার এবং প্রজননকালে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্বিচারে মাছ শিকারই এই সংকটকে তরান্বিত করেছে। এদিকে বাংলাদেশের ইলিশ প্রজনন ছেড়ে ভারতের গুজরাটে চলে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন ছড়ালেও, বৈজ্ঞানিকরা তা স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে মেরিন ফিশারি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ সত্ত্বেও অবৈধ পথে গুজরাটের বিপুল পরিমাণ ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এখন ‘পপুলেশন ডিনামিক্স অ্যান্ড স্টক অ্যাসেসমেন্ট অব টেনুআলুছা ইলিশা’ শীর্ষক মেগা গবেষণা প্রকল্প চালু করেছে। বৈজ্ঞানিকদের মতে, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশের প্রজনন ক্ষমতা সর্বাধিক থাকে, তাই এই ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা কঠোরভাবে বন্ধ রাখা জরুরি। বাংলাদেশে এভাবে ইলিশের আকাল চলতে থাকলে ভারতের বাজারেও তার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


বিষয় : BangladeshNews BengalNews HiddenStoriesNews HilsaFish IlishCrisis PadmaIlish FishCrisis

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


Ilish Crisis: পদ্মায় আর মিলছে না রুপোলি শস্য! বাংলাদেশে ইলিশের চরম হাহাকার, বাংলাদেশ ছেড়ে কি গুজরাটে পালাচ্ছে পদ্মার ইলিশ?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
ঢাকা: একসময় পদ্মায় জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ত রুপোলি ইলিশ, যার স্বাদে-গন্ধে মাতোয়ারা হতো পারাপারের দুই বাংলাই। কিন্তু সেই সোনালী দিন এখন অতীত। বাংলাদেশে ক্রমশই উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই মাছের উৎপাদন। গত পাঁচ বছরে উৎপাদনের গ্রাফ একনাগাড়ে নিম্নমুখী হওয়ার পাশাপাশি ইলিশের ডিম প্রজনন ও ছোট খোকা ইলিশের বেঁচে থাকার হারও আশঙ্কাজনকভাবে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। যার জেরে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে ইলিশের চরম হাহাকার এবং স্বাভাবিকভাবেই বাজারে ইলিশের দাম আকাশ ছুঁয়েছে।সরকারি ও মৎস্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে বাংলাদেশে যেখানে ইলিশের মোট উৎপাদন ছিল ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন, ২০২৩-২৪ বর্ষে তা একধাক্কায় কমে দাঁড়ায় ৫ লক্ষ ২৯ হাজার টনে। আর ২০২৪-২৫ সালে সেই উৎপাদন আরও হ্রাস পেয়ে মাত্র ৫ লক্ষ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। ইলিশের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি চাঁদপুরেও পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ; সেখানে উৎপাদন ৩৩ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন থেকে কমে ৩২ হাজার ৩০৪ মেট্রিক টনে ঠেকেছে। ২০২২ সালে যেখানে ৮ লক্ষ ৫ হাজার কেজির বেশি ডিম থেকে প্রায় ৪০ হাজার ২৭৬ কোটি খোকা ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল, ২০২৫-এ এসে সেই ডিম ও খোকা ইলিশের সংখ্যা হাজার হাজার কোটি কমে গিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীগুলোর গভীরতা হ্রাস পাওয়া এবং তলদেশে পলি-বালি জমে অগভীর চর তৈরি হওয়াই ইলিশ উধাও হওয়ার মূল কারণ, কারণ ইলিশ মূলত গভীর জলের মাছ। তাছাড়া অতিরিক্ত নদীদূষণ, চট্টগ্রাম ও সাগরে ক্ষতিকর ট্রলি বা টং জালের অবৈধ ব্যবহার এবং প্রজননকালে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্বিচারে মাছ শিকারই এই সংকটকে তরান্বিত করেছে। এদিকে বাংলাদেশের ইলিশ প্রজনন ছেড়ে ভারতের গুজরাটে চলে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন ছড়ালেও, বৈজ্ঞানিকরা তা স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে মেরিন ফিশারি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ সত্ত্বেও অবৈধ পথে গুজরাটের বিপুল পরিমাণ ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এখন ‘পপুলেশন ডিনামিক্স অ্যান্ড স্টক অ্যাসেসমেন্ট অব টেনুআলুছা ইলিশা’ শীর্ষক মেগা গবেষণা প্রকল্প চালু করেছে। বৈজ্ঞানিকদের মতে, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশের প্রজনন ক্ষমতা সর্বাধিক থাকে, তাই এই ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা কঠোরভাবে বন্ধ রাখা জরুরি। বাংলাদেশে এভাবে ইলিশের আকাল চলতে থাকলে ভারতের বাজারেও তার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত