কলকাতা: সর্বভারতীয় স্তরে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। দীর্ঘ কয়েক বছর পর অবশেষে দিল্লির দরবারে বিরাট সম্মান ও গুরুদায়িত্ব পেলেন ইন্ডাস্ট্রির 'ইন্ডাস্ট্রি' প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড বা 'সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন' (সিবিএফসি)-এর অন্যতম নতুন সদস্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বাংলা ছবির এই মেগাস্টারকে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফ থেকে প্রকাশিত একটি নতুন বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১৮ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে প্রসেনজিতের পাশাপাশি রয়েছে জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী রূপালী গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর চলতি বছরেই নতুন করে ঢেলে সাজানো হলো চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডকে। মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে গঠিত ১২ জন সদস্যের বোর্ডের অনেকেরই মেয়াদের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াটি অপেক্ষমাণ ছিল। সেন্সর বোর্ডের দায়িত্বের পরিধি ও নিয়মকানুন অপরিবর্তিত থাকলেও, বোর্ডের সদস্য তালিকায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। প্রসেনজিৎ ছাড়াও হিন্দি বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ তথা 'অনুপমা' ধারাবাহিকখ্যাত বাঙালি কন্যা রূপালী গঙ্গোপাধ্যায় রয়েছেন এই তালিকায়।
কেবল প্রসেনজিৎ বা রূপালীই নন, নবগঠিত এই সেন্সর বোর্ডে রয়েছে বিনোদন ও শিল্পজগতের বাঘা বাঘা তারকাদের উপস্থিতি। তালিকায় রয়েছেন বলিউডের পঙ্কজ ত্রিপাঠী, প্রীতি জিন্টা, সুনীল শেট্টি, পল্লবী জোশী, মনোজ জোশী এবং নামজাদা দক্ষিণ ভারতীয় পরিচালক প্রিয়দর্শন। এছাড়াও স্থান পেয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা গায়ক হংসরাজ হংস, গ্র্যামিজয়ী সুরকার রিকি কেজ, প্রযোজক নীল মাধব পণ্ডা এবং নাট্যপরিচালক বামন কেন্দ্রেরা। রূপোলি পর্দায় কোন ছবি প্রদর্শনযোগ্য আর কোনটা নয়—আগামী দিনে তা নির্ধারণের গুরুভার থাকবে এই ১৮ জনের কাঁধেই।
নিজের এই নতুন ইনিংস প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, একটি ছবির গল্প শোনার সময় তিনি এই খবরটি পান। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, তাই একে নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন তিনি। সেন্সর বোর্ডের মতো সম্মানীয় জায়গায় বসে পুরো বাংলা ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন অভিনেতা।
অন্যদিকে, সেন্সর বোর্ডের এই বড় পরিবর্তনের মাঝেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নজরদারি নিয়ে দেশজুড়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। বড় পর্দার মতোই ওটিটি-র কন্টেন্টেও সেন্সরশিপের প্রয়োজনীয়তার বার্তা দিয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। ওয়েব সিরিজের 'সাংস্কৃতিক দূষণ' রুখতে ইতিমদ্ধেই একটি বিশেষ প্যানেল গঠিত হয়েছে, যেখানে সঙ্ঘের একাধিক প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যরা রয়েছেন। ওটিটি নীতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন