বিধাননগর: আদালত চত্বরে আইনজীবীকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ হোক কিংবা থানার ঠিক বাইরেই প্রাক্তন শাসকদলের বিধায়ককে ঘিরে হাতাহাতি! রাজ্যে একের পর এক গোলমালের ঘটনায় এ বার চরম বিরক্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যর মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ-সহ রাজ্য বিজেপির নেতারা। রোজকার এই ‘ডিম থেরাপি’ ও রাজনৈতিক জলঘোলা নিয়ে রাজ্য রাজনীতির পরিবেশ যে ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে উঠছে, তা নিয়ে সোচ্চার হয়ে বিজেপির স্পষ্ট বার্তা, ‘সবকিছুরই একটা সীমা থাকা উচিত।’ এই ধরণের অসভ্যতা বা হিংসার সংস্কৃতিকে পদ্মশিবির যে একেবারেই সমর্থন করে না, তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। ভাঙড় কলেজের অশান্তির মামলায় ধৃত এসএফআই সদস্য ও সমর্থকদের হয়ে সওয়াল করতে বারুইপুর আদালতে গিয়েছিলেন সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী সায়েন বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, পুলিশি নিরাপত্তার কড়াকড়ির তোয়াক্কা না করেই আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ছোড়া হয়।
অনভিপ্রেত এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, "আদালত চত্বরের মতো জায়গায় কেউ কী করে ডিম নিয়ে ঢুকছে, সেটা পুলিশ-প্রশাসনের দেখা উচিত ছিল। বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার সবার থাকতে পারে, কিন্তু কে কেন মারছে? সবকিছুরই একটা সীমা থাকা উচিত।"
একই সঙ্গে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য সিপিআইএম ও তৃণমূল, দুই বিরোধী মেরুকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, "এই সংস্কৃতি শুরু করেছে কারা? সিপিএমই তো এসব শুরু করেছিল, আর হাই কোর্টে বিচারপতির এজলাসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে তাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে তৃণমূল! আজ সেটাই কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই এই সব নোংরামো অবিলম্বে বন্ধ হোক।"
অন্যদিকে, ওই একই দিনে মুকুন্দপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। সেই ঘটনার জেরে পূর্ব যাদবপুর থানায় শাসকদলের নেতারা অভিযোগ জানাতে গেলে থানার বাইরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। ঠিক সেই সময় থানায় ঢোকার চেষ্টা করলে ডেবরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে হুমায়ুন কবীরের উপর আক্রমণের এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দিলীপবাবুর কটাক্ষ, "হুমায়ুন কবীরকে কেউ মারতে যাবে কেন? উনি তো এখন তৃণমূলেও নেই, বিজেপিতেও নেই। আসলে রাজনৈতিকভাবে হতাশ ও অস্তিত্ব সঙ্কটে ভোগা বিরোধীরা এখন নিজেরা ঝগড়া করছে, নিজেদের অফিস ভাঙছে, আর মিডিয়া ফুটজের জন্য ড্রামা তৈরি করছে। এই সব সস্তা নাটক করে মানুষের মন পাওয়া যাবে না।"
পরপর দুটি পৃথক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আদালতের মতো সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা পেরিয়ে কী ভাবে হামলাকারীরা ঢুকছে, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
বিষয় : HiddenStoriesNews

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন