Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

First Space Weapon : মহাকাশে প্রথমবার অস্ত্র মোতায়ন আমেরিকার! চিন-রাশিয়ার চোখ রাঙানিতে সিঁদুরে মেঘ বিশ্ব রাজনীতিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
First Space Weapon : মহাকাশে প্রথমবার অস্ত্র মোতায়ন আমেরিকার! চিন-রাশিয়ার চোখ রাঙানিতে সিঁদুরে মেঘ বিশ্ব রাজনীতিতে
ট্রাম্পের হাতে মহাকাশ অস্ত্র ? গ্রাফিক্স চিত্র

ওয়াশিংটন: মহাকাশ যুদ্ধের জল্পনা এবার কি সত্যি হবে!

কারণ, মহাশূন্যে প্রথমবার নিজেদের গোপন অস্ত্র মোতায়েন করার কথা সরকারিভাবে স্বীকার করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মহাশূন্যে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সম্ভাব্য শত্রু দেশের আক্রমণ প্রতিহত করতেই এই 'অন-অরবিট' (On-Orbit) বা কক্ষপথের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। 

সোমবার মেরিল্যান্ডে আয়োজিত বার্ষিক এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে এই বিস্ফোরক ঘোষণা করেন মার্কিন এয়ার ফোর্স সেক্রেটারি ট্রয় মেঙ্ক। যা আদতে চিন ও রাশিয়ার মতো প্রধান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি ওয়াশিংটনের এক বড়সড় ও স্পষ্ট হুশিয়ারি বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

মহাশূন্যের সামরিকীকরণ নতুন কোনও ঘটনা নয়। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিকের উৎক্ষেপণের পর থেকেই ওয়াশিংটন এবং মস্কো মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস বা অস্ত্রায়নের পথ খুঁজতে শুরু করেছিল। ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ বা মহাকাশ চুক্তির মাধ্যমে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র বা পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হলেও, মহাশূন্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চিরকালই তৎপর ছিল মহাশক্তিগুলি। 

তবে এই প্রথম কোনও দেশ মহাশূন্যে তাদের আক্রমণাত্মক সমরাস্ত্র থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল। মার্কিন স্পেস ফোর্সের দাবি, সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি এবং নেভিগেশনের মূল চাবিকাঠি হলো স্যাটেলাইট। সেই মহাকাশ ডোমেন রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল।

ট্রয় মেঙ্ক যদিও নির্দিষ্ট করে জানাননি ঠিক কী ধরনের অস্ত্র মহাশূন্যে পাঠিয়েছে আমেরিকা, তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই অস্ত্রগুলি ব্যবহার করা হবে প্রধানত "স্পেস কন্ট্রোল" বা মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য। 

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে আমেরিকার নিজস্ব ‘গোল্ডেন ডোম’ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে বাইরের মহাকাশে প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। 

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, "যৌথ বাহিনীকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল অস্ত্র রয়েছে।" কিনেটিক (kinetic) এবং নন-কিনেটিক, উভয় মাধ্যমেই শত্রুর ক্ষমতা খর্ব করতে এই অস্ত্র আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।

আমেরিকার এই পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলের মতে, চিন ও রাশিয়া, উভয় দেশই মহাশূন্যে আমেরিকার আধিপত্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

আমেরিকার স্পেস ফোর্সের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন তাদের সামরিক আধুনিকীকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে স্পেস এবং কাউন্টার-স্পেস ক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া মহাশূন্যকে যুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে এবং তাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতের সংঘাতে মহাকাশের আধিপত্যই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে। এখন ওয়াশিংটনের এই মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের জবাবে বেইজিং ও মস্কো কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।

বিষয় : HiddenStoriesNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


First Space Weapon : মহাকাশে প্রথমবার অস্ত্র মোতায়ন আমেরিকার! চিন-রাশিয়ার চোখ রাঙানিতে সিঁদুরে মেঘ বিশ্ব রাজনীতিতে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ওয়াশিংটন: মহাকাশ যুদ্ধের জল্পনা এবার কি সত্যি হবে!কারণ, মহাশূন্যে প্রথমবার নিজেদের গোপন অস্ত্র মোতায়েন করার কথা সরকারিভাবে স্বীকার করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মহাশূন্যে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সম্ভাব্য শত্রু দেশের আক্রমণ প্রতিহত করতেই এই 'অন-অরবিট' (On-Orbit) বা কক্ষপথের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। সোমবার মেরিল্যান্ডে আয়োজিত বার্ষিক এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে এই বিস্ফোরক ঘোষণা করেন মার্কিন এয়ার ফোর্স সেক্রেটারি ট্রয় মেঙ্ক। যা আদতে চিন ও রাশিয়ার মতো প্রধান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি ওয়াশিংটনের এক বড়সড় ও স্পষ্ট হুশিয়ারি বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।মহাশূন্যের সামরিকীকরণ নতুন কোনও ঘটনা নয়। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিকের উৎক্ষেপণের পর থেকেই ওয়াশিংটন এবং মস্কো মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস বা অস্ত্রায়নের পথ খুঁজতে শুরু করেছিল। ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ বা মহাকাশ চুক্তির মাধ্যমে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র বা পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হলেও, মহাশূন্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চিরকালই তৎপর ছিল মহাশক্তিগুলি। তবে এই প্রথম কোনও দেশ মহাশূন্যে তাদের আক্রমণাত্মক সমরাস্ত্র থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল। মার্কিন স্পেস ফোর্সের দাবি, সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি এবং নেভিগেশনের মূল চাবিকাঠি হলো স্যাটেলাইট। সেই মহাকাশ ডোমেন রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল।ট্রয় মেঙ্ক যদিও নির্দিষ্ট করে জানাননি ঠিক কী ধরনের অস্ত্র মহাশূন্যে পাঠিয়েছে আমেরিকা, তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই অস্ত্রগুলি ব্যবহার করা হবে প্রধানত "স্পেস কন্ট্রোল" বা মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে আমেরিকার নিজস্ব ‘গোল্ডেন ডোম’ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে বাইরের মহাকাশে প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, "যৌথ বাহিনীকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল অস্ত্র রয়েছে।" কিনেটিক (kinetic) এবং নন-কিনেটিক, উভয় মাধ্যমেই শত্রুর ক্ষমতা খর্ব করতে এই অস্ত্র আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।আমেরিকার এই পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলের মতে, চিন ও রাশিয়া, উভয় দেশই মহাশূন্যে আমেরিকার আধিপত্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমেরিকার স্পেস ফোর্সের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন তাদের সামরিক আধুনিকীকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে স্পেস এবং কাউন্টার-স্পেস ক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া মহাশূন্যকে যুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে এবং তাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতের সংঘাতে মহাকাশের আধিপত্যই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে। এখন ওয়াশিংটনের এই মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের জবাবে বেইজিং ও মস্কো কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত