নয়াদিল্লি: একের পর এক ম্যাচে বিধ্বংসী মেজাজ।
এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নির্ভীক ব্যাটিং। আইপিএলে রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স। তার পরও জাতীয় দলে জায়গা বলতে বেঞ্চ! মাত্র ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শোরগোল, ঠিক তখনই সোজা ব্যাটে আসল সত্যটা জানিয়ে দিলেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে গম্ভীর স্পষ্ট করে দিলেন, বাইরে থেকে হইচই করে বা সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে ভারতের প্রথম একাদশ ঠিক হয় না। ফর্ম যতই ভাল থাক, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কম্বিনেশন ভেঙে তরুণদের রাতারাতি সুযোগ দেওয়া জাতীয় দলের সংস্কৃতি হতে পারে না।
মঙ্গলবার লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে ইনিংস শুরু করতে চলেছেন সেই সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মা। বৈভবকে আবার থাকতে হচ্ছে রিজার্ভ বেঞ্চেই। কিন্তু কেন ১৫ বছরের এই তরুণ তুর্কির উপর এখনই পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছেন না হেড কোচ?
জিয়োস্টার-এর ‘ফলো দ্য ব্লুজ’ অনুষ্ঠানে কোচ খোলসা করেছেন সেই রহস্য। গম্ভীরের মতে, সঞ্জু ও অভিষেক জুটি গত এক-দেড় বছর ধরে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলকে সাফল্য এনে দিয়েছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের এই ওপেনিং জুটিই ভারতের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি।
তিনটি বা চারটি ম্যাচে কেউ রান না পেলেই রাতারাতি তাঁদের বসিয়ে নতুন কাউকে আনাটা দলের ভিত নড়িয়ে দেয়। গম্ভীর বলেন, “আজ যদি বৈভবকে খেলাই, তা হলে আমাকে সঞ্জু বা অভিষেকের মত ক্রিকেটারদের বাদ দিতে হবে। সেটা যে কতটা কঠিন আলোচনা, আমি জানি। যারা দীর্ঘদিন দেশের জন্য পারফর্ম করছে, তিনটে খারাপ ম্যাচের পর তাদের সরিয়ে দেওয়াটা প্লেয়ারদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে।”
আসলে ড্রেসিংরুমে সুস্থ পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই গম্ভীরের মূল লক্ষ্য। প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে নেটিজেনরা যতই বৈভবকে একাদশে নেওয়ার দাবি তুলুক না কেন, গম্ভীর নিজের সিদ্ধান্ত থেকে এক চুল সরছেন না।
কোচের কথায়, “সোশ্যাল মিডিয়া বা বাইরের আওয়াজ দেখে প্রথম একাদশ ঠিক হয় না। ড্রেসিংরুম, অধিনায়ক এবং কোচ কাকে দলের জন্য জয়ের আসল কারিগর মনে করছেন, সেটাই মূল কথা। আমার পক্ষে জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব সহজ, কিন্তু সবচেয়ে কঠিন হলো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। সঞ্জু আর অভিষেককে সুযোগ দিয়ে যাওয়াটাই এই মুহূর্তের সঠিক সিদ্ধান্ত।”
গম্ভীর আরও মনে করিয়ে দেন, খেলার ইতিহাসে এমন কোনও দল নেই যা এক বিশ্বকাপ থেকে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা অপরাজিত থেকে ম্যাচ জেতে। এক-দুটো খারাপ দিন আসা মানেই প্লেয়ার বা দলটা হঠাৎ খারাপ হয়ে যায় না।
অবশ্য বৈভবের সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলেছেন বলেও জানান গৌতম। ইংল্যান্ড সফরে সঞ্জুর টানা ব্যর্থতার পর বৈভবকে টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং এই তরুণ নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। কিন্তু সঞ্জু ফের ফর্মে ফেরায় এবং এশিয়াডের পর আফগানিস্তান সিরিজেও রান পাওয়ায় অভিজ্ঞ জুটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন কোচ।
১৫ বছরের উদীয়মান তারকাকে গম্ভীর বুঝিয়ে দিয়েছেন, পারফর্ম করা সত্ত্বেও দলীয় সংহতি ও অভিজ্ঞতার খাতিরে তাঁকে নিজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। সব মিলিয়ে, বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ না থাকলেও, কোচের স্পষ্ট বার্তা, ধৈর্যই এখন এই বিস্ময় বালকের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন