বনগাঁ: গাইঘাটায় নাবালিকাকে নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের পর পুলিশের গুলিতে নিহত অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের উদ্যোগ নিল জেলা পুলিশ! পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর প্রহ্লাদের দরিদ্র পরিবার আর্থিক সাহায্যের যে আবেদন জানিয়েছিল, তা বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে বনগাঁ জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত জানান, প্রহ্লাদের পরিবার যাতে আর্থিক অনুদান পায়, তার জন্য পুলিশের তরফেই নবান্নে আবেদন পাঠানো হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, পুলিশি হেফাজতে কারও মৃত্যু হলে সরকারি নিয়ম মেনে আর্থিক সাহায্য পাওয়ার একটি বিধান রয়েছে, যার ভিত্তিতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক নাবালিকাকে জলসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় যুবক প্রহ্লাদ দাসের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং অকুস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার সময় অভিযুক্ত পুলিশের পিস্তল কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের। ছেলের এই মৃত্যুর পর তাঁর বৃদ্ধা মা রেখা দাস জানান, পরিবারের ঘাড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে এবং তাঁর নিজের চিকিৎসারও প্রয়োজন। তাই ছেলে অপরাধী হলেও সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণটুকু পেলে অন্তত দেনা মিটিয়ে চিকিৎসা করাতে পারবেন বলে আকুতি জানান তিনি।
অন্যদিকে, পুলিশ প্রহ্লাদের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষা করতে গিয়ে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান তদন্তকারীরা। ফোনে বিপুল পরিমাণ চরম আপত্তিকর পর্ন ভিডিওর হদিশ মেলে। যদিও নিহতের মায়ের দাবি, ছেলে সারাদিন গীতা পাঠ করত এবং ফোনে দেব-দেবীর ছবিই থাকত। এই সম্পূর্ণ ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তভার নিতে সিআইডি-র কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছে জেলা পুলিশ, যার দায়িত্বভার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডলকে নৃশংসভাবে খুনের মামলার স্থানটিতে পৌঁছে ফরেনসিক দল প্রচুর নমুনা ও রক্তের দাগ সংগ্রহ করেছে। সেখানেও দিনকয়েক আগে পুর্ননির্মাণের সময় সামাউল হক নামে এক অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায়। তবে নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত ‘এনকাউন্টার’ বলে মারাত্মক দাবি করেছে।
Leave a comment