•
Home Top-News Rathindra Bose speaker: চোরবাগান ‘ছোট্ট ঘটনা’! বিধানসভার অধ্যক্ষের মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক
Top-Newsকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

Rathindra Bose speaker: চোরবাগান ‘ছোট্ট ঘটনা’! বিধানসভার অধ্যক্ষের মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক

Share
চোরবাগান নিয়ে স্পিকারের মন্তব্য়ে বিতর্ক। নিজস্ব ছবি
Share

কলকাতা: দুর্গাপুজোর সপ্তমীর রাতে কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া এক বিভীষিকাময় ট্র্যাজেডিকে স্রেফ ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলে অভিহিত করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়লেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস। সোমবার রাজ্য বিধানভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সমস্ত জল্পনা ও সমালোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি। 

বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে পুজোর আনন্দ ও বিষাদের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অধ্যক্ষের মুখ থেকে ১৯ জনের প্রাণহানির মতো একটি মর্মান্তিক বিপর্যয়কে লঘু করে দেখার এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকেই এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছেন কুণাল ঘোষ।

এ দিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস বলেন, ‘‘আমরা পশ্চিমবঙ্গে বাস করি, আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব যেটা আনন্দ করি যেখানে সেটা হচ্ছে আমাদের দুর্গাপুজোকে নিয়ে। দুর্গাপুজোকে নিয়ে সবাই আনন্দ করে, মনের পুজো এবং মনের আনন্দ করার আমাদের সময়। আমরা সবাই দুর্গাপুজোতে আনন্দ করেছি, ছোট্ট একটা ঘটনা ঘটেছিল। সেটার জন্য মনটা ভারাক্রান্ত হয়েছিল, এবং তারপরে দুর্গাপুজোর পরে আমরা বিজয়া দশমী করলাম, সবার সঙ্গে সবাই মিলিত হয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা বিনিময় করলাম।’’ 

এরপর তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রথা ও অন্যান্য রাজনৈতিক সৌজন্যমূলক বার্তা নিয়েও কথা বলেন। কিন্তু তাঁর ওই ‘ছোট্ট একটা ঘটনা ঘটেছিল’, এই শব্দবন্ধটিই নিমেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

অধ্যক্ষের এই সংবেদনশীলতাহীন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেজায় চটেছেন এবং সোচ্চার হয়েছেন তৃণমূলের পরিচিত মুখ তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অধ্যক্ষের ওই ভিডিও ক্লিপটি নিজের হ্যান্ডেলে শেয়ার করে কুণাল অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন, ‘‘মাননীয় বিধানসভার অধ্যক্ষ, পুজোয় চোরবাগানের মৃত্যুমিছিল ছোট্ট ঘটনা? মুখ থেকে বেরোল? বিবৃতি দিয়ে সংশোধন করে নেওয়া প্রয়োজন। তালিকা তৈরি রাখুন। এরপর অধিবেশনের শুরুর শোকপ্রস্তাবে চোরবাগানে নিহত প্রত্যেকের নাম রাখতে হবে।’’ শাসক শিবিরের অন্দরের এই প্রকাশ্য সমালোচনা থেকেই স্পষ্ট যে, অধ্যক্ষের এমন আলগা মন্তব্যকে মোটেও সহজভাবে নিচ্ছেন না দলের নেতারাই।

আরও পড়ুন: থানায় থানায় কালীপুজো নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড়! তোষণ রাজনীতির চরম সমালোচনা করে এবার কড়া জবাব দিলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের দুর্গাপুজোর সপ্তমীর রাতে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো প্যান্ডেল চত্বরে উপচে পড়া ভিড় এবং চরম অব্যবস্থার জেরে পদপিষ্ট হয়ে মোট ১৯ জন নিরীহ দর্শনার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন বহু মানুষ। পুজোর আনন্দের মাঝে এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এই ঘটনার দায় কার এবং কোথায় প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। সিটের প্রধান তথা প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে এই তদন্ত এগিয়ে চলেছে। 

গত শনিবারই সিটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঘটনার দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত গিরিশ পার্ক থানার একাধিক পুলিশ আধিকারিক এবং দমকল বাহিনীর কর্তাদের তলব করা হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ জন কর্মকর্তাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর মহাকরণে সিটের প্রথম দফার বৈঠক বসেছিল। 

ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ যাচাই করা এবং আগামী দিনে কোন কোন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জবানবন্দি নেওয়া হবে, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করার কাজও জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল। আগামী ৭ নভেম্বর সিটের পরবর্তী বৈঠকেও নতুন করে বেশ কয়েকজনকে তলব করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

একদিকে যখন ১৯ জনের প্রাণহানির এই ঘটনায় সিটের তদন্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত এবং বিচার পাওয়ার দাবিতে যখন সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা সোচ্চার, ঠিক সেই সময়ে বিধানসভার সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আসনে বসে অধ্যক্ষের এই ‘ছোট্ট ঘটনা’ মন্তব্য সেই ক্ষোভে যেন নতুন করে ঘি ঢেলেছে। নিহতদের পরিবারের শোক এবং চলমান আইনি ও প্রশাসনিক তদন্তের মাঝে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সরকারের অস্বস্তি যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *