•
Home পশ্চিমবঙ্গ BJP: রাতের অন্ধকারে বোমাবাজি, ভাঙচুর! জামালপুরে বিজেপির ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’
পশ্চিমবঙ্গ

BJP: রাতের অন্ধকারে বোমাবাজি, ভাঙচুর! জামালপুরে বিজেপির ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’

Share
বুধবার রাতে জামালপুরে উত্তেজনা। নিজস্ব ছবি
Share

জামালপুর: কালীপুজোর আগে হঠাৎ তেতে উঠল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর। অভিযোগ উঠল বিজেপির আদি ও নব্যের বিবাদকে কেন্দ্র করে। মণ্ডলের পদ দখল ও দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নিয়ে বচসার জেরে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল রাজপথে। জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের উত্তর মোহনপুরে দলীয় মণ্ডল সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডলের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলা, দেদার ভাঙচুর এবং ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল দলেরই বিপরীত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে গোটা এলাকায়।

রাতের অন্ধকারে রণক্ষেত্র জামালপুর

স্থানীয় সূত্রের খবর, জামালপুর ১৪২ নম্বর বুথ এলাকায় বুধবার রাতে বিজেপি নেতা সুশান্ত মণ্ডলের বাড়িকে লক্ষ্য করে হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয়। অভিযোগ, হামলাকারীদের সঙ্গে ছিল বিজেপির ব্যানার ও অস্ত্র। ১০০-র বেশি অনুগামী নিয়ে বিজেপি মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল এই তাণ্ডব চালায় বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন আক্রান্ত সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অতর্কিতে শুরু হয় ইটবৃষ্টি ও লাঠিচার্জ। এর পর ঘরের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। আলমারি ভেঙে প্রচুর টাকা ও সোনাদানা লুটপাট করা হয় বলে সুশান্তবাবুর পরিবারের দাবি। তছনছ করার পর পুরো বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা।

আক্রান্ত বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, জামালপুর এলাকায় বিজেপির ছাতার তলায় বসে কিছু অসাধু নেতা বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। মণ্ডল সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের এই অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন ধরেই সোচ্চার হয়েছিলেন সুশান্ত মণ্ডল এবং তাঁর অনুগামীরা। 

আরও পড়ুন: ধনতেরাসের ঠিক আগে হাওড়ায় সোনা লুট! বন্দুক ঠেকিয়ে ১ কোটির গয়না সাফ করল সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা

সেই প্রতিবাদের ‘শাস্তি’ দিতেই এই ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বিজেপি নেত্রীরাও। মহিলা মোর্চার নেত্রী দেবিকা দেবনাথ সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাণ্ডব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় জামালপুর থানায় খবর দেওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ আসেনি। 

পুলিশের এই চরম নিষ্ক্রিয়তা ও দেরিতে পৌঁছানোর কারণেই দুষ্কৃতীরা নির্বিঘ্নে তাণ্ডব চালিয়ে চম্পট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে তিনি তোপ দাগেন।

পাল্টা মারে ক্ষুব্ধ অন্য পক্ষ, অস্বীকার তাণ্ডব

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পাল্টা অভিযুক্ত গোষ্ঠী। মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালের অনুগামী বলে পরিচিত স্থানীয় বিজেপি কর্মী সাজ্জাদ হোসেন উল্টে সুশান্ত মণ্ডলের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন। 

তাঁর দাবি, বুধবার সন্ধেয় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মিছিল শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে জামালপুর মোড়ের কাছে সুশান্ত মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা আচমকাই লোহার রড, লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই অতর্কিত হামলায় তাঁদের পক্ষের অন্তত তিন জন দলীয় কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিজেদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন সাজ্জাদ। তাঁর বক্তব্য, “বাড়ি পোড়ানোর নাটকের সঙ্গে আমাদের কর্মীদের কোনও সম্পর্ক নেই। দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এবং মূল ঘটনা থেকে নজর ঘোরাতে এসব সাজানো অভিযোগ করা হচ্ছে।”

উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে পুলিশ

ঘটনার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর জামালপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আক্রান্ত পক্ষের কর্মীরা প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুলিশকে ঘিরে ধরে চলে বিক্ষোভ। পরে অতিরিক্ত বাহিনী গিয়ে এবং স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

জামালপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “দু’পক্ষেরই অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।”

ভোটের মুখে শাসক দলকে আক্রমণের বদলে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির এভাবে নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বিড়ম্বনায় পড়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই গৃহযুদ্ধ জামালপুরের রাজনীতিতে কতখানি প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *