25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home কলকাতা Nandigram By Election: জলে গেল না অর্পিতার কান্না! আদালত থেকে অন্তর্বতী জামিন পেয়ে নন্দীগ্রামের ভোট ময়দানে কংগ্রেসের মিলন
কলকাতা

Nandigram By Election: জলে গেল না অর্পিতার কান্না! আদালত থেকে অন্তর্বতী জামিন পেয়ে নন্দীগ্রামের ভোট ময়দানে কংগ্রেসের মিলন

Share
Nandigram By Election: জলে গেল না অর্পিতার কান্না! আদালত থেকে অন্তর্বতী জামিন পেয়ে নন্দীগ্রামের ভোট ময়দানে কংগ্রেসের মিলন
আদালতের পর্যবেক্ষণে আপাত স্বস্তিতে মিলন প্রধানের পরিবার।
Share

কলকাতা: ‘আমার স্বামী নির্দোষ!’

প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে বসে কথাগুলো বলছেন আর চোখ বেয়ে জল নেমে আসছে নন্দীগ্রামে গ্রেফতার কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের স্ত্রী অর্পিতা প্রধানের। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্য়েই আইনি জটিলতা আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মেঘ কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির মুখ দেখলেন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। 

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর জেল থেকেই সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার পথ পরিষ্কার হলো তাঁর। ১৯ বছরের পুরনো জমি আন্দোলনের মামলায় ভোটের ঠিক মুখেই মিলনবাবুকে পুলিশ গ্রেফতার করায় চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছিল প্রদেশ কংগ্রেস। কিন্তু হাইকোর্টের বিচারপতির স্পষ্ট বার্তার পর নন্দীগ্রামের ভোটের সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে গেল।

এর আগে পর্যন্ত আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও নতুন পুরনো মামলায় মিলন প্রধানকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর চক্রান্ত চলছিল বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস। এমতাবস্থায় স্বামী জেলবন্দি থাকায় এবং সন্তান স্কুলে যেতে না পারায় বৃহস্পতিবার বিধান ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মিলনবাবুর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। 

কান্নাভেজা গলায় অর্পিতাদেবী প্রশ্ন তুলেছিলেন, “২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ঘটনায় যদি একই মামলায় অনেকে জড়িত থাকেন, তবে তাঁরা কী ভাবে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? দলবদল না করে নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসে অটল থাকাটাই কি আমার স্বামীর অপরাধ?” স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে দাবি করে তিনি স্পষ্ট জানান, বিরোধী রাজনীতি করেন বলেই তাঁর পরিবারকে এই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের সেই আবেগঘন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের রাজ্য পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশী এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। অর্পিতাদেবী কঠিন এই সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তৃণমূুলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাহুল গান্ধী উভয়ের প্রতিই কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। 

বৈঠক চলাকালীন স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের (SB) দুই কর্মীর আচমকা উপস্থিতি ঘিরে বিধান ভবনে কিছুক্ষণের জন্য চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়। কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ তোলে, বিরোধীরা কী করছে তা দেখতে সরকারি নজরদারির নামে এই ধরনের পদক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না।

প্রথমে ঠিক হয়েছিল স্বামীর অনুপস্থিতিতে অর্পিতাদেবীই শুক্রবার থেকে নন্দীগ্রামের বাজারে বাজারে প্রচারে নামবেন এবং সাধারণ মানুষের আদালতে বিচার চাইবেন। তবে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশের পর এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আদালতের এই মানবিক ও আইনি পদক্ষেপে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ফিরে এসেছে। 

জেলের অন্ধকার কুঠুরি থেকে বেরিয়ে মিলন প্রধান নিজে যখন মাঠে নেমে প্রচার সামলাবেন, তখন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে শাসক-বিরোধী লড়াই যে আরও তীব্র ও নাটকীয় মোড় নিতে চলেছে, তা নিশ্চিত করে বলছেন রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *