কলকাতা: মাঝরাতেই প্রলয় শুরু! মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রকৃতির ভয়ংকর রূপ নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের ইয়ানাম ও পুদুচেরি উপকূলে আছড়ে পড়েছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ল্যান্ডফলের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। বাপাটলা থেকে বিশাখাপত্তনম—পুরো উপকূলজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে এই সাইক্লোন। ঝড়ের তীব্র আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে উপড়ে গেছে হাজার হাজার গাছ এবং বিদ্যুতের ভারী খুঁটি। অন্ধ্রের কাঁকিনাড়া, কোনসিমা, বিশাখাপত্তনম এবং পশ্চিম গোদাবরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মুষলধারে বৃষ্টিতে বিশাখাপত্তনমের ২০০ মিলিমিটারের বেশি জল জমে রাস্তাঘাট নদীমাতৃক রূপ নিয়েছে। উপকূলীয় গ্রামগুলিতে সমুদ্রের জল ঢুকে দেড় থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রশাসন সূত্রে খবর, পূর্ব ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমির ধান ও অন্যান্য ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রায় ৮৯ হাজার মানুষকে।
ওডিশাতেও ‘অর্ণব’-এর জেরে চলছে অতি ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া। গজপতি, গঞ্জাম, রায়গাড়া, কোরাপুট এবং মালকানগিরির মতো জেলাগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ ওডিশার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি থেকে প্রায় ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে মাল্টিপারপাস ফ্লাড সেন্টারে রাখা হয়েছে। রাজ্যের ১৬টি জেলার সমস্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটকদের সুরক্ষায় পুরীসহ সমস্ত সমুদ্র সৈকতে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা এবং নামার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা।
এদিকে এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গোটা দেশের বিমান চলাচলের ওপর। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বিশাখাপত্তনম, বিজয়ওয়াড়া এবং রাজামুন্দ্রি বিমানবন্দরে সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং আকাশা এয়ারের তরফে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ব্যাঙ্ককগামী একাধিক বিমান বাতিল করা হয়েছে। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের তরফে যাত্রীদের বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে ফ্লাইটের লাইভ স্ট্যাটাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্ধ্র ও ওডিশাকে কাঁপানোর পর এবার ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে বাংলায়। মঙ্গলবার রাত থেকেই কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরসহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঝিরিঝিরি থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধ ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় বইতে পারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। নতুন করে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সমস্ত রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
Leave a comment