কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের দাপটে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশার বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, দমকা হাওয়া, জল জমে একাধিক এলাকায় সমস্যার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গাছ ভেঙে পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশে পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঝড়ের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৩১টি বাড়ি। প্রশাসন সূত্রে খবর, ৭১৪টিরও বেশি গ্রামে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে।
টানা ছ’ঘণ্টা ধরে চলেছে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ সেই প্রক্রিয়া শেষ হয় ইয়ানাম উপকূলে। বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লি, কাকিনাড়া, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলায় মৃত্যুর খবর এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যজুড়ে ৩৯টি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং ৮০টি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) দল মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলিতে চলছে উদ্ধারকাজ।
অন্য দিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে ওডিশাতেও। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে উদ্ধারকারী দল। গজপতি জেলার মোহনা এলাকায় ভেঙে পড়েছে গুন্ডারিগুড়া সেতুর গার্ডওয়াল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
দুর্যোগের প্রভাব পড়তে পারে বাংলার উপকূলেও। সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণি-সহ সমুদ্রতীরবর্তী এলাকাগুলিতে মাইকিং করছে প্রশাসন। পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে। এছাড়াও মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পুলিশ ও প্রশাসন।
অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশায় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাব্য প্রভাবিত এলাকাতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, পুদুচেরি, তেলঙ্গানা এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
Leave a comment