নবদ্বীপ: মুখ বন্ধ রাখতে হাত খরচের কিছু টাকা গুজে দেওয়া হতো নাবালিকার হাতে, সঙ্গে চলত প্রাণনাশের হুমকিও। কিন্তু প্রদীপের নিচের অন্ধকার যে এভাবে প্রকাশ্যে আসবে, তা হয়তো ভাবতে পারেনি অভিযুক্ত। নদিয়ার নবদ্বীপ থানা এলাকায় এক ১৩ বছরের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক প্রতিবেশীকে। এই পৈশাচিক ঘটনা জানাজানি হতেই গোটা এলাকা জুড়ে চরম ক্ষোভ ও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে নবদ্বীপ আদালতের উদ্দেশ্যে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম স্বপন ভৌমিক। সে নদিয়ার নবদ্বীপ থানা এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা। অভিযোগ, ওই নাবালিকাকে দিনের পর দিন ধরে নিজ বাসস্থানের বাথরুমে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে যৌন নিগ্রহ করত ওই প্রৌঢ়। কোনোভাবে যাতে পরিবারের লোক বা আশেপাশের মানুষ বিষটি জানতে না পারে, তাই নিজের অপরাধ ঢাকতে নাবালিকাকে কখনও ২০ টাকা আবার কখনও ৫০ টাকা হাতে গুজে দিত অভিযুক্ত। একই সঙ্গে মুখ খুললে চরম পরিণতির হুমকিও দিত সে, যার ভয়ে দীর্ঘ দিন মুখ খোলেনি ছোট্ট মেয়েটি।
তবে অন্যায় বেশি দিন চাপা থাকেনি। গত ২৬ অক্টোবর বিকেলে যখন নাবালিকার বাড়িতে কেউ ছিলেন না, সেই ফাঁকা সুযোগ কাজে লাগায় স্বপন। নাবালিকাকে ফুসলিয়ে বাথরুমে নিয়ে ঢুকে পড়ে সে। সেখানেই আবারও তার ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন। বাথরুম থেকে বেরোনোর পর গতানুগতিকভাবে মেয়েটিকে কিছু টাকা দেয় অভিযুক্ত। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। প্রতিবেশী এক মহিলা অভিযুক্তকে ওই নাবালিকাকে টাকা দিতে দেখে ফেলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গেই খোঁজখবর নিতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা ওই নাবালিকাকে পরম স্নেহে জিজ্ঞেস করলে সে কেঁদে ফেলে এবং তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সমস্ত বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা একের পর এক খুলে বলে। বিস্তারিত জানার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তৎক্ষণাৎ নাবালিকার পরিবার নবদ্বীপ থানায় গিয়ে স্বপন ভৌমিকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত স্বপন ভৌমিককে গ্রেফতার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
Leave a comment