উত্তরাখণ্ড: পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে এমন বিপদের মুখে পড়তে হবে, তা কি ভাবতে পেরেছিলেন তাঁরা? উত্তরাখণ্ডের কেদারতালে ভয়াবহ তুষারধসের পর তিন দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও খোঁজ নেই বাংলার পাঁচ ট্রেকার-সহ মোট আটজনের। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই তাঁদের খোঁজে জোরকদমে চলছে উদ্ধার অভিযান।
গত ২৭ অক্টোবর বন দফতরের অনুমতি নিয়ে ১২ জনের একটি দল গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতালের উদ্দেশে রওনা হয়। দলে ছিলেন সাতজন ট্রেকার, একজন গাইড, একজন রাঁধুনি এবং তিনজন পোর্টার। ২৯ অক্টোবর তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু প্রবল তুষারপাত ও তুষারধসের কারণে মাঝপথেই আটকে পড়েন তাঁরা।
উত্তরাখণ্ড প্রশাসন সূত্রে খবর, দলের চারজন কোনওক্রমে নিরাপদে ফিরে আসতে পেরেছেন। কিন্তু বাকি আটজনের এখনও কোনও সন্ধান নেই। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বাংলার পাঁচজন—
নিখোঁজদের তালিকা:
১. তাপস বাউড়ি (৩০) – পশ্চিমবঙ্গ
২. রত্না ঘোষ (২৩) – পশ্চিমবঙ্গ
৩. মনোজ খোভাস (৩৯) – পশ্চিমবঙ্গ
৪. ঋতু মণ্ডল (৪০) – পশ্চিমবঙ্গ
৫. উদয় ঘোষ (৩০) – পশ্চিমবঙ্গ
৬. বর্তিকা ভার্মা (২৮) – উত্তরপ্রদেশ
৭. সিদ্ধার্থ রানা (২৫) – উত্তরকাশী, স্থানীয় গাইড
৮. অষ্টম সদস্য – পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়।
জানা গিয়েছে, ৩০ অক্টোবর ট্রেকিং সংস্থার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে দলটি জানিয়েছিল, তারা কাচ্চি ধাং এলাকার কাছে আটকে রয়েছে। এমনকী, দলের একজনের মাথায় গুরুতর চোট লাগার কথাও জানানো হয়েছিল। তারপর থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ।
এরপর থেকেই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। তবে ঘন মেঘ ও তুষারপাতের কারণে বারবার বাধা পেতে হয়েছে উদ্ধারকারীদের। রবিবার আকাশপথে তল্লাশি চালিয়েও মেলেনি কোনও সন্ধান। অবশেষে সোমবার আবহাওয়া কিছুটা পরিষ্কার হতেই SDRF ও NDRF-এর বিশেষ দল ড্রোন ক্যামেরা নিয়ে দুর্গম পথে তল্লাশি শুরু করেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনা ও বায়ুসেনার হেলিকপ্টারও।
তিন দিন ধরে প্রিয়জনদের অপেক্ষায় দিন কাটছে পরিবারগুলির। এখন একটাই প্রশ্ন, কেদারতালের বরফে ঢাকা পাহাড় থেকে কবে মিলবে নিখোঁজ আটজনের সন্ধান?
Leave a comment