কলকাতা: শনিবার রাতে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এক ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি হলো মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান। ককপিটে হঠাৎই তীব্র লেজার আলোর চোখধাঁধানো ঝলকানি এসে পৌঁছানোয় সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন পাইলট। ১৫৯ জন যাত্রী ও ৭ জন কেবিন ক্রু সদস্যকে নিয়ে মাঝ আকাশেই চক্কর কাটতে শুরু করে বিএইচ-১৮৪ নম্বর বিমানটি। পাইলটের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত রাত ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হলে এক চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিমানবন্দর চত্বরে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, কুয়ালালামপুর থেকে আসা বিমানটি যখন রানওয়ে থেকে মাত্র আট নটিক্যাল মাইল দূরে, ঠিক তখনই মধ্যমগ্রাম-বারাসত এলাকার দিক থেকে লেজার আলোর শক্তিশালী রশ্মি সোজা ককপিটে গিয়ে আঘাত করে। এর ফলে সঠিক সময়ে রানওয়ে দেখতে না পেয়ে অবতরণ স্থগিত রেখে আকাশে চক্কর দিতে বাধ্য হন পাইলট। বিমানটি নিরাপদে ৫৭এল পার্কিং বে-তে দাঁড় করানোর পরেই বিমান সংস্থার তরফে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এনএসসিবিআই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় লেজার আলোর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এই প্রথম নয়। এর আগেও দুর্গাপূজার সময় শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের লেজার শো-এর আলো ককপিটে পৌঁছানোয় একই রকম বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার জেরে পরে সেই আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া এবং পুলিশে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও নজরদারির ফাঁক গলে বারবার কেন লেজার আলো ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ জমেছে বিমান চালক ও যাত্রীদের মনে। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কলকাতার আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন